সতীন

স্যাতস্যাতে দিনে মনটাও কেমন ভিজে ভিজে হয়ে ওঠে। কেবল বৃষ্টি আর বৃষ্টি, ঠাণ্ডা হাওয়া ছুটছে সর্বক্ষণ, তবু মেঘের যেন অন্ত নেই। কাছারির ওধারে বড় পুকুরটা কানায় কানায় টলোমলো; আর ওধারের কাঁচা রাস্তাটায় কাদা ছাড়া কিছু নেই। কখনো একটা কিংবা দুটো জানলা-তোলা গাড়ি যাবে, অথবা একটা-দুটো লোক। কারো ছাতি আছে, কারো নেই। কিন্তু জুতো নেই কারো পায়ে। কাদা আর পানি রাস্তায়, জুতো সেখানে চলে না, খালি পায়েও অতি সাবধানে পা টিপে টিপে চলতে হয়-পিচ্ছিল কাদায় একবার পিছলে গেলে দেহের আর কিছু থাকবে না।

খড়খড়িটা তুলে করিমন পথ দেখছিল। ঘরে আবছা অন্ধকার, তোলা-খড়খড়ি দিয়ে যা বা ম্লান আলো আসছে, সে-আলো তার মুখে পড়ে তার ফ্যাকাসে মুখ আরো ফ্যাকাসে করে তুলেছে। বৃষ্টি দেখে ভালো লাগে না, তবু ঘরের স্যাঁতস্যাতে ভেজা ভেজা অন্ধকারের চেয়ে পানি পড়া দেখতে ভালো লাগে চোখে: তাছাড়া দুর্যোগের মধ্যে পথে যাদের বেরুতেই হয়েছে তাদের বিপদগ্রস্ত শংকিত চলাফেরা দেখতেও কৌতূহল হয়। তবু রাস্তায় যা-কিছু আকর্ষণ ভেতরে নেই; ভেতরে অন্ধকার-তো বটেই তাছাড়া ও ঘরে দেখে এসেছে হাফেজ আর রেজিয়া বড় খাটটায় একজন শুয়ে একজন বসে হাসাহাসি করছে। হাফেজের চোখে মাদকতা আর মনের কী একটা ভাব ঢাকবার জন্য রেজিয়া হাসছে বেশি।


সে-রাতে অনেকক্ষণ গুম হয়ে জেগে ছিল করিমন, ঘুম এল না... একটা হিংসার মতো তীব্র চেতনা শিরশির করে উঠল করিমনের চেতনায়; কিন্তু তক্ষুনি হঠাৎ ডাকলে তাকে—বোন, অ বোন। ওঠ-গো বোন!


একদিন হাফেজ এমনি ছিল না। চাকরিটি পেয়ে করিমনকে বিয়ে করে মফস্বল শহরে এসে যখন ছোট সংসারটি পাতল তখন হাফেজ এমনি ছিল না। তারপর একটি মেয়ে হল, হাফেজ কেমন হঠাৎ দূরে সরে গেল। তবু দিন যায়। সংসার নিয়ে—মেয়ে নিয়ে। তাছাড়া সংসারের রোজকার ঝঞ্ঝাট। হাফেজ দূরে সরে কি গিয়েছে, কি কাছে রয়েছে ওকথা নিয়ে কোনোদিন সে মাথা ঘামায় নি। সোজা মানুষ, সেকেলে মানুষ, মায়ের থেকে এক আঙ্গুল বাড়া। বরঞ্চ এই ভালো লাগত। প্রথম-প্রথম হাফেজ যখন তার আশেপাশে সাধ্য-সময়মতো ঘুরপাক খেত, কেবল মিঠে মিঠে কথা কইত, কথায় কথায় চোখে হেসে ফিসফিসিয়ে আবোল-তাবোল কথা কইত, তখন থেকে-থেকে ভারি বিশ্রী লাগত তার। আরো একটি মেয়ে যখন হল তখন করিমনের কাছে হাফেজের অস্তিত্ব অস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সংসারের কাজের মধ্যে পাক-সাক নিয়ে, দু-মেয়েকে নিয়ে সেও ঘুরছে, হাফেজও ঘুরছে, কিন্তু তারা যেন আলাদা, প্রচুর দূরত্ব তাদের মধ্যে। আকাশে দুটো তারার মতো। কিন্তু এবং এটাকে অস্বাভাবিক কিছু ভাবে নি করিমন, পরস্পরের দুই চক্রের মধ্যে যতই তফাত থাকুক না কেন, তবু তারা একই সংসারের মধ্যে ঘুরছে বলে চক্রের ব্যবহার সম্বন্ধে সে সজ্ঞান হয় নি কখনো। তারপর আরো একটি সন্তান হল: এবার এক ছেলে। কিন্তু ছেলে ছ-মাসে না পড়তেই হঠাৎ কানাঘুষায় কেমন একটা কথা করিমনের কানে এসে লাগল, কিন্তু সে নির্বাক হয়েই রইল। তিন সন্তানের দেখাশোনা, সংসার, তাছাড়া পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, কোরান- তালাওয়াত, —এসব নিয়ে সারাদিন এত ব্যস্ত যে ওসব কানাঘুষা কানে তুলে তা নিয়ে আলোচনা করবার মতো তার মনের অবসর নেই। কিন্তু একদিন রাতে সংসারের সমস্ত কাজ শেষ করে শান্ত মনে ও দিলে এশার নামাজ পড়ে সে আলো নিভিয়ে শুতে আসবে হঠাৎ মশারির ভেতর থেকে হাফেজের গলার আওয়াজ পেল। করিমন একটু বিস্মিত হল। কারণ হাফেজের স্বভাব হল যেই শোয়া অমনি ঘুম। কিন্তু কদ্দিন হতে লক্ষ্য করছিল, শুয়েও সে ঘুমোয় না, কেমন অস্থির-অস্থির ভাব করে কেবল, একবার এপাশ ফেরে একবার ওপাশ। আলো ততক্ষণে নিভিয়ে দিয়েছিল করিমন, এবং হঠাৎ ফিরে আসা অন্ধকারের মধ্যে করিমন শুনলে

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

৯৯

এক মাস

৯৯

৩০

মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

আজকের কুইজ

[কুইজে অংশ নিয়ে জিতে নিন এক মাসের ফ্রি সাবক্রিপশন]

এ সপ্তাহের জরিপ

Readers Opinion

Editors Choice