মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম : ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের ভূমিকা
অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে রক্তাক্ত পথ বেয়ে এসেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। ১৯৫০ সালের তেভাগা, নানকার, টংকের কৃষক বিদ্রোহ ’৪৮, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৫২-এর সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের রক্তে রক্তাক্ত মহান একুশের জন্য। ২১ দফার ভিত্তিতে হক, ভাসানী, সোহরাওয়ার্দীর ’৫৪-তে যুক্তফ্রন্টের ধস নামানো বিজয়, মুসলিম লীগের ভরাডুবি। যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও আমলাতন্ত্রের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র। ৫৮’র মার্শাল ল’, জেনারেল আইয়ুবের ক্ষমতা দখল। ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৪-তে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রার্থী হিসেবে কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বোন মাদার এ মিল্লাতের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, পূর্ব পাকিস্তানে (আজকের বাংলাদেশ) জনজোয়ার। কিন্তু অপ্রত্যক্ষ নির্বাচনের কারণে অর্থাৎ ইউনিয়ন কাউন্সিলের মেম্বারদের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়াতে সম্মিলিত বিরোধী দলের পক্ষে জনজোয়ার সৃষ্টি হওয়ার পরও আইয়ুব খানের বিজয়। ৬৫-এর যুদ্ধ, ৬৬ সালের ছয় দফা, শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ৬৮-এর শিক্ষা ও রাজবন্দী মুক্তির আন্দোলন, রাজনৈতিক দলগুলোর ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন কমিটি গঠন, ৬৯-এর ছাত্রদের ১১ দফা। আন্দোলনের নতুন মাত্রা, নতুন পর্যায়ে আন্দোলন শুরু। রাজপথে স্লোগান—‘৬ দফার সংগ্রাম চলবে’, ‘১১ দফার সংগ্রাম চলবে’, ‘ক্যান্টনমেন্ট ভাঙব, শেখ মুজিবকে আনব’, ‘জেলের তালা ভাঙব, মণি সিংকে আনব, মতিয়া চৌধুরীকে আনব, রাজবন্দীদের আনব’, ‘লাঠি গুলি টিয়ার গ্যাস, জবাব দেবে বাংলাদেশ’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা’, ‘সেনটো সিয়াটো পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি বাতিল কর, করতে হবে’। ‘মোনায়েম খানের চামড়া তুলে নেব আমরা, দালালদের চামড়া তুলে নেব আমরা’, ‘জনতার সংগ্রাম চলবে, আমাদের সংগ্রাম চলবে, চলবে’। এই হলো স্বাধীনতাসংগ্রামের পটভূমি।
পাকিস্তানের জন্মের পর থেকে জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জাতিগত নিপীড়ন চালানোতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীকে পরামর্শ, মদদ, সহযোগিতা দিয়ে এসেছে বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী বিশেষ করে আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ, যা আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামে উলঙ্গভাবে আত্মপ্রকাশ করেছিল।
আগেই বলেছি ’৬৯-এর ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন হওয়ায় আন্দোলন নতুন পর্যায়ে নতুন মাত্রায় শুরু হয়। ২৪ জানুয়ারি সারা দেশে বিশেষ করে ঢাকায় গণ-অভ্যুত্থান হয়। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার ও শাসক দলের কনভেনশন মুসলিম লীগের গণবিরোধী নেতার সরকার ও জনগণের এ রুদ্ররোষের মুখে মাথা নত করে, আন্দোলনকারী শক্তির কাছে আপস আলোচনার প্রস্তাব দেয়। আন্দোলনকারী নেতৃত্ব বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার শর্ত হিসেবে রাজবন্দীদের মুক্তি ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের দাবি তোলে। আইয়ুব সরকার তা মেনে নেয়। রাজবন্দীরা একে একে মুক্তি পায়, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার হয়। আইয়ুব আহূত গোলটেবিল বৈঠকে যাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ, মোজাফফর ন্যাপ ও অন্যান্য দল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বের ন্যাপ (ভাসানী) স্লোগান তোলে ‘গোলটেবিল না রাজপথ? রাজপথ, রাজপথ’। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, ওয়ালী খান ও মোজাফফরের নেতৃত্বে ন্যাপ ও অন্যান্য দল গোলটেবিলে আশগ্রহণ করে। গোলটেবিল বৈঠকে এক ইউনিট বাতিল, এক লোক এক ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের কথা হলেও আলোচনার আর কোনো অগ্রগতি হলো না।
গোলটেবিলের কিছুদিনের মধ্যে আইয়ুব খান ক্ষমতা থেকে উৎখাত হয়, ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় আরোহণ করেন। দেশে মার্শাল ল আসে। ইয়াহিয়া খান (LFO) লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক ঘোষণা করে। এক লোক এক ভোটের ভিত্তিতে নির্বাচন মেনে নিয়ে ১৯৭০-এর ৭ ডিসেম্বরে জাতীয় পরিষদের নির্বাচন ঘোষণা করা হয়, ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হয়। জনসংখ্যা অনুপাতে নির্বাচন ঘোষিত হলে আওয়ামী লীগ, ন্যাপসহ (মোজাফ্ফর) অন্যান্য দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ভাসানী ন্যাপ, ‘পূর্ব বাংলা স্বাধীন কর, ভোটের বাক্সে লাথি মার’ ‘কৃষক শ্রমিক অস্ত্র ধর, পূর্ব বাংলা স্বাধীন কর’। এ স্লোগান নিয়ে নির্বাচন বর্জন করে। এই নীতি কৌশলও
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments