-
রাবার বুলেটের নামকরণ এমনভাবেই করা যেন শুনতে মনে হয় খেলনা রাবারের বুলেট, যেটি কোনো ক্ষতি করতে পারে না। নন-লিথাইল বন্দুক (মারণাস্ত্র নয়) মূলত শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত নানা বিক্ষোভ, দাঙ্গা, আন্দোলনকে ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাবহৃত হয়ে থাকে। নন-লিথাইল অস্ত্র প্রস্তুত করার মূল লক্ষ্য ছিল সেটি যেন মানুষের কোনো ক্ষতি না করে। রাবার বুলেট নামটা শুনলে যতই খেলনা খেলনা প্লাস্টিক বা রাবারের বুলেটের মত মনে হয়, কিন্ত সেটি মোটেই সেরকম নয়।
রাবার বুলেট মানবদেহের বিভিন্ন স্পর্শকাতর অঙ্গে স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি আঘাত করতে পারে, ফলে চিরতরে হাত-পায়ে ভাঙন, চোখে অন্ধ, মস্তিষ্কে রক্তপাত থেকে শুরু করে, কিডলি, লিভারে রক্তপাতের কারণ হতে পারে এবং অতিরিক্ত ইনফেকশন থেকে
-
গাছেরা কি কিছু বলে? অনেকে বলিবেন, এ আবার কেমন প্রশ্ন? গাছ কি কোনও দিন কথা কহিয়া থাকে? মানুষেই কি সব কথা ফুটিয়া বলে? আর যাহা ফুটিয়া বলে না, তাহা কি কথা নয়? আমাদের একটী খোকা আছে, সে সব কথা ফুটিয়া বলিতে পারে না; আবার ফুটিয়া যে দুই চারিটা কথা বলে, তাহাও এমন আধ আধ, ভাঙা ভাঙা যে, অপরের সাধ্য নাই তাহার অর্থ বুঝিতে পারে। কিন্তু আমরা আমাদের খোকার সকল কথার অর্থ বুঝিতে পারি। কেবল তাহা নয়। আমাদের খোকা অনেক কথা ফুটিয়া বলে না; চক্ষু, মুখ ও হাত নাড়া, মাথা নাড়া প্রভৃতির দ্বারা আকার ইঙ্গিতে অনেক কথা কয়, আমরা তাহা বুঝিতে
-
বিশ্বজগৎ নিয়মের রাজ্য, এইরূপ একটা বাক্য আজকাল সর্ব্বদাই শুনিতে পাওয়া যায়। বিজ্ঞান সম্পৃক্ত যে কোন গ্রন্থ হাতে করিলেই দেখা যাইবে যে, লেখা রহিয়াছে, প্রকৃতির রাজ্যের অনিয়মের অস্তিত্ব নাই; সর্ব্বত্রই নিয়ম, সর্ব্বত্রই শৃঙ্খলা। ভূতপূর্ব্ব আর্গাইলের ডিউক নিয়মের রাজত্ব সম্পর্কে একখানা বৃহৎ কেতাবই লিখিয়া গিয়াছেন। মনুষ্যের রাজ্যে আইন আছে বটে, এবং সেই আইন ভঙ্গ করিলে শাস্তিরও ব্যবস্থা আছে; কিন্তু অনেকেই আইনকে ফাঁকি দিয়া অব্যাহতি লাভ করে। কিন্তু বিশ্বজগতে অর্থাৎ প্রকৃতির রাজ্যে যে সকল আইনের বিধান বর্তমান, তাহার একটাতেও ফাঁকি দিবার যো নাই। কোথাও ব্যভিচার নাই, কোথাও ফাঁকি দিয়া অব্যাহতি লাভের উপায় নাই। কাজেই প্রাকৃতিক নিয়মের জয়গান করিতে গিয়া অনেকে পুলকিত হন ভাবাবেশে
-
দিশি ও দেয়া দুইবোন। দুজনই পিঠাপিঠি একজন ক্লাস ফাইভে, আরেকজন ক্লাস ফোরে। সারাদিন লেগে থাকে একজন আরেজনের পেছনে। দিশি একটু শান্ত স্বভাবের, বড়রা সাধারণত যেমন হয়; আর দেয়া একটু চঞ্চল, ছোটরা যেমন হয় আরকি।
বাসায় বাবা-মা আর তারা দু’বোন ছাড়াও আরো একজন থাকেন। তিনি হলেন তাদের নানী সম্পর্কের। দীর্ঘদিন ধরেই বাসায় আছেন। বাসার কাজকর্ম করেন, তবুও তিনি এ পরিবারেরই একজন। তার কোনো নাম নেই। অবাক হলে! হুম অবাক হওয়ার মতোই কথা। নাম একটা ছিল বৈকি, কিন্তু কালক্রমে তা হারিয়ে গেছে সময়ের সাথে সাথে। খুব ছোটবেলাতেই তার বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের আগে বাপ-মা-অন্যরা ‘কেনী’ বলে ডাকতো; আর বিয়ের পর শ্বশুর-শাশুড়ি ‘বৌমা’
-
মানুষের কল্যাণে কাজ করলেও অনেকসময় সইতে হয় একরাশ নিন্দা ও গঞ্জনা। তবুও কিছু কিছু উদারমনা মানুষ নিরলস কাজ করে যান মানুষের জন্য, মানবতার জন্য, সভ্যতার জন্য। সমকালে মূল্যায়িত না হলেও ইতিহাস কিন্তু মূল্যায়ন করতে ভুল করে না। এ প্রসঙ্গে ড. হুমায়ুন আজাদের “আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে" কবিতার কথা মনে আসে।
ঠিক এমন একজনের কথাই জানবো, যিনি প্রকৃতপক্ষেই জন্মেছিলেন অন্যদের সময়ে, বেঁচে ছিলেন অন্যদের সময়ে। তিনি হলেন ডা. রেনে হিউফিল হায়াসিনথি লেনেক। ঊনিশ শতকের শুরুতে ১৮১৬ সালে তিনি ছিলেন প্যারিসের বিখ্যাত ন্যাক্কারে হাসপাতালে কর্মরত। এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল ফুসফুস ও শ্বাস-প্রশ্বাসের রোগাক্রান্ত। একদিন হঠাৎ করে অতিকায় এক
-
অনেকদিন আগের কথা। ময়মনসিংহের জমিদার বাড়ির পেছনে এক অচিন বৃক্ষে আচমকা চোখ আটকে যায়। বৃক্ষের প্রতি আমার ছোট্ট থেকেই ভীষণ আগ্রহ। বাবার সরকারি চাকরীসূত্রে আমরা যখন কুষ্টিয়া ছিলাম, তখন (স্কুল থেকে কলেজ পর্যন্ত) আমার সংগ্রহে প্রায় দেড়শ’ প্রজাতির সৌখিন গাছ ছিল। কুষ্টিয়া থেকে গ্রামের বাড়ি জামালপুর স্থানান্তরিত হতে তখন অনেক গাছ অনিচ্ছাসত্ত্বেও বিসর্জন দিতে হয়েছে।
এরপর আনন্দমোহন কলেজে অনার্স পড়তে যাওয়া। সেখানেও উদ্ভিদ থেকে নিষ্কৃতি পেলাম না। যদিও ইচ্ছে ছিল পদার্থবিদ্যায় পড়বো, কিন্তু মামার অনুরোধে ঢেঁকি গিলতে গিয়ে হলো বিপত্তি। অগত্যা মুখস্থবিদ্যার সঙ্গে ৬ বছর কাটাতে হলো। মুখস্থকরণে আমার ছিল বড্ডবেশি দুর্বলতা। পরিণামে ফলাফল তথৈবচ। যাহোক শুরু করি। আজকের লেখাটি
-
আমরা যত ধরনের কর্মকাণ্ড করি সারাজীবনে তার প্রায় সম্পূর্ণটাই নিয়ন্ত্রন করে আমাদের মস্তিষ্ক। আমাদের মস্তিষ্ক থেকে দেহে পাঠানো সংকেত এবং মস্তিষ্কে নতুন নতুন সংযোগ তৈরী ও বন্ধের মধ্যে দিয়ে এই পক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হয়। পূর্বে ধারণা করা হত যে ছোটবেলা থেকে বড় হতে হতে আমাদের মস্তিষ্কের যা যা পরিবর্তন প্রয়োজন হতে থাকে এবং বড় হয়ে গেলে সেটি একটি স্থির অবস্থায় পৌছায় যাতে কোন পরিবর্তন সম্ভব নয়। কিন্তু এই ধারণাটি আসলে ভুল। বড় হয়ে গেলে আমাদের মস্তিষ্ক আরও পরিবর্তনশীল একটি অবস্থায় পৌছায়। তারচেয়েও বড় যেটি সেটি হল আমাদের মস্তিষ্ক সবসময়ই নিজেকে নিজেই খেতে থাকে! কথাটি ভাবলেও অবাক লাগে তবে মস্তিষ্কে সেটিই ঘটছে
-
মৃত্তিকার নীচে অনেক দিন বীজ লুকাইয়া থাকে। মাসের পর মাস এইরূপে কাটিয়া গেল। শীতের পর বসন্ত আসিল। এখন আর লুকাইয়া থাকিবার প্রয়োজন নাই। বাহির হইতে কে যেন শিশুকে ডাকিয়া বলিতেছে, "আর ঘুমাইও না, উপরে উঠিয়া আইস, সূর্য্যের আলো দেখিবে।" আস্তে আস্তে বীজের ঢাক্কাটি খসিয়া পড়িল, দুইটি কোমল পাতার মধ্য হইতে অঙ্কুর বাহির হইল। অঙ্কুরের এক অংশ নীচের দিকে গিয়া দৃঢ়রূপে মাটি ধরিয়া রহিল, আর এক অংশ মাটি ভেদ করিয়া উপরে উঠিল। তোমরা কি অঙ্কুর উঠিতে দেখিয়াছ? মনে হয়, শিশুটি যেন ছোট মাথা তুলিয়া, আশ্চর্য্যের সহিত নূতন দেশ দেখিতেছে।
গাছের অঙ্কুর বাহির হইলে যে অংশ মাটির ভিতর প্রবেশ করে, তাহার নাম
-
বিজ্ঞান ও ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে কোনো অর্জনই আকস্মিক নয়। এর মালিকানা আসলে কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানি বা দেশ দাবি করতে পারে না। প্রতিটি অর্জনই বস্তুত আগের দীর্ঘ অর্জনের সমষ্টি। প্রতিটি অর্জনই দীর্ঘ ধারাবাহিকতার ফসল। এই অর্জন, এই অগ্রগতি মানুষের, বিশ্বের সকলের। সে হিসেবে আমরাও এর অংশীদার। যদি বিচ্ছিন্নভাবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষের অর্জনের বিষয় পরীক্ষা করতে বসি তাহলে তা খুব উল্লেখযোগ্য নয়। কেননা এই অঞ্চলে মানুষের জীবনের মতোই, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশও, এই দেশের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা এবং সৃজনশীলতার বিকাশের মধ্য দিয়ে যা ঘটতে পারতো, তা বরাবরই বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এখানে এখন তাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খণ্ডিত, আরোপিত, আগ্রাসনের সঙ্গী।
সাম্প্রতিককালে কম্পিউটার ও
-
ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়—নামটি যে আমাদের দেশে একেবারেই অপরিচিত, তা হয়তো নয়। তবে সে পরিচিতির পরিধি যে খুবই সীমিত, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। যাঁরা এই নামটির সঙ্গে পরিচিত, তাঁদেরও খুব অল্পসংখ্যকই এই নামের মানুষটির কৃতি ও অবদানের স্বরূপ সম্পর্কে অবহিত। অথচ, মনীষী বলতে প্রকৃত অর্থে যা বোঝায়, ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন তা-ই। যিনি মনীষাসম্পন্ন তাঁকেই তো বলে মনীষী। আর ‘মনীষা’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে ‘মনের ঈষা’। ‘ঈষা’ মানে ‘লাঙ্গলের কাষ্ঠ নির্মিত দণ্ড’। ‘ঈষা’ যেমন লাঙ্গলটিকে ধারণ করে ও সঠিকভাবে চালিত করে, মনীষী ব্যক্তিদের মনেরও থাকে তেমনই ধারণশক্তি। তাঁদের বুদ্ধি কখনও বিচলিত হয় না, দিকভ্রষ্ট হয় না, সর্বদা তা সঠিক লক্ষ্যাভিমুখী
-
ইভান্ পেত্রোভিচ, পাভলভ, (১৮৪৯-১৯৩৬) আমাদের দেশে এখনও অপরিচিত বললেই চলে। তাঁর ‘কন্ডিশন্ড্-রিফ্লেক্স’ কথাটি অল্পাধিক জানা আছে অনেকের কিন্তু এর সঠিক তাৎপর্য এবং চিকিৎসা-বিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, ভাষাবিজ্ঞান ও প্রধানত মনোবিজ্ঞানের উপর পাভলভের এই ‘কন্ডিশন্ড্-রিফ্লেক্স’ আবিষ্কারের প্রভাব সম্বন্ধে আমাদের দেশের পণ্ডিত ব্যক্তিরাও সম্পূর্ণ সজাগ নন।
মনোবিজ্ঞান এই সেদিনও দর্শনশাস্ত্রের আওতার মধ্যে আটকা ছিলো। সত্যিকারের বিজ্ঞানের পর্যায়ে আসবার ও স্বাতন্ত্র্য লাভের চেষ্টা দেখতে পাই ১৮৭৮ খ্রীষ্টাব্দের পর থেকে। এই সময় জার্মানীতে ওয়েবার, মুলার, হেল্মহোজ প্রভৃতি ফিজিওলজিষ্টরা দর্শন ও শ্রবণইন্দ্রিয় বিষয়ক বহু নতুন তথ্য আবিষ্কার করেন, ইংলণ্ডে “Expression Of The Emotions In Men And Animals” বইখানি এই সময় প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭৯ খৃষ্টাব্দে জার্মানীতেই ভোকনার
-
লেখক: খালেদা ইয়াসমিন ইতি
"যারা বলেন যে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা সম্ভব নয় তারা হয় বাংলা জানেন না, নয়তো বিজ্ঞান জানেন না।"
আগামী প্রজন্মের উদ্দেশে এই চিরস্মরণীয় উক্তিটি যিনি করেছিলেন, তিনি হলেন, সত্যেন্দ্রনাথ বসু। যে সময়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বিজ্ঞানের চার কিংবদন্তী- পরমাণু বিজ্ঞানী লিস মিটনার, অটোহ্যান, আলবার্ট আইনস্টাইন এবং ম্যাক্স ভনলু এর মতো প্রতিভাবান বিজ্ঞানীরা; সময়ের সেই সুবর্ণরেখার ধারায় এ উপমহাদেশে রামানুজন, মেঘনাদ সাহা, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু এবং রবীন্দ্রনাথের পাশাপাশি জন্মগ্রহণ করেন সত্যেন্দ্রনাথ বসু।
১৮৯৪ সালের ১লা জানুয়ারি উত্তর কলিকাতার গোয়ানবাজান অঞ্চলে ঈশ্বরমিল লেনের পৈতৃক গৃহে তাঁর জন্ম। পিতা রেলওয়ের হিসাব রক্ষক- সুরেন্দ্রনাথ বসু, মাতা আমোদিনী দেবী। আর মাতামহ মতিলাল রায়
ক্যাটাগরি
উৎস
আর্কাইভ
লেখক
- অ্যান্ড্রু রবিনসন (১)
- আনু মুহাম্মদ (১)
- আসাহাবুর রহমান (১)
- এম এ আজিজ মিয়া (৫)
- কানিজ ফাতিমা (৩)
- গোলাম মোরশেদ খান (১)
- জগদীশ চন্দ্র বসু (৩)
- ড. আলী আসগর (১)
- দ্বিজেন শর্মা (১)
- ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় (১)
- প্রক্রিয়াধীন (১৬)
- ফিরোজ আহমেদ (১)
- বদিউর রহমান (১)
- মোহাম্মদ মাসুম (২)
- ম্যাক্সিম গোর্কি (১)
- যতীন সরকার (৩)
- রাজশেখর বসু (১)
- রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী (৬)
- রুশো তাহের (১)
- শাহীন আজিজ (১)
- সামিহা সুলতানা অনন্যা (৩)
- সুবীর বৈরাগী (১)
- সুব্রত বড়ুয়া (১)
- হায়দার আকবর খান রনো (১)
- হাসান তারেক (৪)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.