-
অনেকদিন আগের কথা। ময়মনসিংহের জমিদার বাড়ির পেছনে এক অচিন বৃক্ষে আচমকা চোখ আটকে যায়। বৃক্ষের প্রতি আমার ছোট্ট থেকেই ভীষণ আগ্রহ। বাবার সরকারি চাকরীসূত্রে আমরা যখন কুষ্টিয়া ছিলাম, তখন (স্কুল থেকে কলেজ পর্যন্ত) আমার সংগ্রহে প্রায় দেড়শ’ প্রজাতির সৌখিন গাছ ছিল। কুষ্টিয়া থেকে গ্রামের বাড়ি জামালপুর স্থানান্তরিত হতে তখন অনেক গাছ অনিচ্ছাসত্ত্বেও বিসর্জন দিতে হয়েছে।
এরপর আনন্দমোহন কলেজে অনার্স পড়তে যাওয়া। সেখানেও উদ্ভিদ থেকে নিষ্কৃতি পেলাম না। যদিও ইচ্ছে ছিল পদার্থবিদ্যায় পড়বো, কিন্তু মামার অনুরোধে ঢেঁকি গিলতে গিয়ে হলো বিপত্তি। অগত্যা মুখস্থবিদ্যার সঙ্গে ৬ বছর কাটাতে হলো। মুখস্থকরণে আমার ছিল বড্ডবেশি দুর্বলতা। পরিণামে ফলাফল তথৈবচ। যাহোক শুরু করি। আজকের লেখাটি
-
মানুষের কল্যাণে কাজ করলেও অনেকসময় সইতে হয় একরাশ নিন্দা ও গঞ্জনা। তবুও কিছু কিছু উদারমনা মানুষ নিরলস কাজ করে যান মানুষের জন্য, মানবতার জন্য, সভ্যতার জন্য। সমকালে মূল্যায়িত না হলেও ইতিহাস কিন্তু মূল্যায়ন করতে ভুল করে না। এ প্রসঙ্গে ড. হুমায়ুন আজাদের “আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে" কবিতার কথা মনে আসে।
ঠিক এমন একজনের কথাই জানবো, যিনি প্রকৃতপক্ষেই জন্মেছিলেন অন্যদের সময়ে, বেঁচে ছিলেন অন্যদের সময়ে। তিনি হলেন ডা. রেনে হিউফিল হায়াসিনথি লেনেক। ঊনিশ শতকের শুরুতে ১৮১৬ সালে তিনি ছিলেন প্যারিসের বিখ্যাত ন্যাক্কারে হাসপাতালে কর্মরত। এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল ফুসফুস ও শ্বাস-প্রশ্বাসের রোগাক্রান্ত। একদিন হঠাৎ করে অতিকায় এক
-
১৪৫৬ সালে জার্মানির গুটেনবার্গ কর্তৃক মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কারের অল্পদিনের মধ্যে তা সারা ইউরোপ ও আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে। এর ঠিক একশ বছর পর অর্থাৎ ১৫৫৬ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম মুদ্রণযন্ত্র আমদানি করেন পর্তুগিজরা। সুতরাং এ উপমহাদেশে ছাপাখানার প্রবর্তক—পর্তুগিজরা।
১৫৫৭ সালে ছাপাখানাটি থেকে প্রথম বই ছাপা হয়। ধারণা করা হয় ১৫৫৬ সাল থেকে ১৫৬১ সাল পর্যন্ত গোয়ায় পাঁচটি বই ছাপা হয়েছিল। যদিও এখন পর্যন্ত কারো চোখে একটি বইও দেখার সৌভাগ্য হয়নি। প্রথম নিদর্শন হিসেবে যে বইটি এখনো আছে সেটা হলোCompendio Spirtiual Da Vida Christa। নিউইয়র্কের পাবলিক লাইব্রেরিতে রাখা আছে বইটি। গোয়ার পর ছাপাখানার কেন্দ্র হয় কুইলনে। সেখান থেকে ১৫৭৮ সালে তামিল
-
দিশি ও দেয়া দুইবোন। দুজনই পিঠাপিঠি একজন ক্লাস ফাইভে, আরেকজন ক্লাস ফোরে। সারাদিন লেগে থাকে একজন আরেজনের পেছনে। দিশি একটু শান্ত স্বভাবের, বড়রা সাধারণত যেমন হয়; আর দেয়া একটু চঞ্চল, ছোটরা যেমন হয় আরকি।
বাসায় বাবা-মা আর তারা দু’বোন ছাড়াও আরো একজন থাকেন। তিনি হলেন তাদের নানী সম্পর্কের। দীর্ঘদিন ধরেই বাসায় আছেন। বাসার কাজকর্ম করেন, তবুও তিনি এ পরিবারেরই একজন। তার কোনো নাম নেই। অবাক হলে! হুম অবাক হওয়ার মতোই কথা। নাম একটা ছিল বৈকি, কিন্তু কালক্রমে তা হারিয়ে গেছে সময়ের সাথে সাথে। খুব ছোটবেলাতেই তার বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের আগে বাপ-মা-অন্যরা ‘কেনী’ বলে ডাকতো; আর বিয়ের পর শ্বশুর-শাশুড়ি ‘বৌমা’
-
গাছ পোকা খায়! কী সাংঘাতিক কাণ্ড! তবে কি উদ্ভিদজগতেও আছে মাংসাশী আর নিরামিষাশীর দল? হ্যাঁ আছে বটে। আজ আমরা সেই মাংসাশী গাছের কথা জানবো, যাদেরকে বলা হয় পতঙ্গভুক উদ্ভিদ। এগুলো সাধারণত গুল্ম জাতীয়।
এটুকু আমরা সবাই জানি, গাছ সাধারণত সবুজ পাতায় সূর্যের আলোর সাহায্যে (সালোকসংশ্লেষণ) নিজের খাবার নিজেই তৈরি করে। কিন্তু এমন কিছু গাছ আছে, যাদের শুধু এভাবে পেট ভরে না! আমাদের যেমন শুধু ভাত বা রুটি খেলে চলে না, পুষ্টির জন্য বাড়তি আরও কিছু খেতে হয়। গাছেরও ক্ষেত্রেও তাই। গাছ সূর্যের আলোর সাহায্যে শর্করা তৈরি করে। শর্করা থেকে কার্বন, অক্সিজেন আর হাইড্রোজেন পাওয়া যায়। এ ছাড়াও গাছের বেঁচে থাকার
-
লেখক: মুহম্মদ আশরাফউজ্জামানযাদের জীবন আছে তাদের আমরা জীব বলি। বাকিরা জড়। এখন জীবন কি সেই প্রশ্নে আলোচনা স্থগিত রেখে এইটুকু মোটা দাগে বলা যায় জীব-জড় মিলিয়ে পৃথিবীর পরিবেশ গঠন করে। জীবদের আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায় উদ্ভিদ ও প্রাণি। উদ্ভিদ ও প্রাণি যেমন এক অপরের উপর নির্ভরশীল তেমনি তারা উভয়েই জড়জগতের উপর ও নির্ভরশীল। তাই আমরা বলতে পারি যে এই পরষ্পর নির্ভরশীলতার সার্বিক অবস্থাটাই হলো পরিবেশ। আমরা এটাও লক্ষ করবো যে এই পরষ্পর নির্ভরশীলতার মধ্যে একটি ভারসাম্য আছে। প্রকৃতি এই ভারসাম্য রক্ষা করে। চট করে বিনষ্ট হতে দেয় না।জীববিজ্ঞান পড়তে গেলে আমরা উদ্ভিদ ও প্রাণির মধ্যে বেশ
-
ফুল আর প্রজাপতি বাদে পৃথিবীতে যদি সুন্দর কিছু থাকে, তা হচ্ছে পাখি। তবে পাখির রাজ্যে কোনটি সবচেয়ে সুন্দর তা বলা কঠিন। কারণ, একেকটি পাখি একেক দিকে সুন্দর। এদেশের অনেক পাখির মেলায় সুন্দর পাখির সংখ্যাও নেহাত কম নয়। কিন্তু কোনটি সুন্দরতম? সৌন্দর্য বিবেচনায় এদেশের পাখিদের মধ্যে মৌটুসি-নীলটুনিরাই শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। কারণ, এদের সৌন্দর্য সবখানেই ছড়িয়ে আছে কি গায়ের রঙে, কি ওড়ার ঢঙে, কি গান গাওয়ায়। সৌন্দর্য এদের বাসা তৈরিতে, খাদ্য সংগ্রহে, জীবনযাত্রায়। আর মৌটুসিদের মধ্যে সুন্দরতম হলো নীলটুনি।
নীলটুনিরা এদেশে প্রচুর সংখ্যায় আছে। শহর-বন্দর-গ্রাম-বন-জঙ্গল সবখানেই দেখা যায়। এরা দূর্গাটুনটুনি, বেগুনটুনি, মধুচুষকি নামেও পরিচিত। ইংরেজি নাম Purple Sunbird ও বৈজ্ঞানিক নামCinnyris asiaticus
-
[ম্যাক্সিম গোর্কী (১৮৫৮-১৯৩৬) সোভিয়েত রাশিয়ার অমর কথাশিল্পী হিসেবে সুপরিচিত। বিজ্ঞানের স্বপক্ষে তিনি তাঁর এই ঐতিহাসিক ভাষণটি ১৯১৭ সালে কেরেনেস্কির অস্থায়ী সরকারের সময়ে ‘ফ্রি অ্যাসোসিয়েশন ফর দি ডেভেলপমেণ্ট অ্যান্ড প্রোপাগেশন অব দ্য পজিটিভ সায়েন্স’-এর প্রথম অধিবেশনে পাঠ করেন।]
...সম্মানিত নাগরিকবৃন্দ! আপনাদের কাছে সম্ভবত এটি অদ্ভূত লাগবে যে, আমি বিজ্ঞান সম্পর্কে, নবজাত রাশিয়ার জীবনে এর তাৎপর্য সম্পর্কে এবং নতুন রাশিয়ার ইতিহাসে বিজ্ঞান প্রযুক্তবিদ্যা কী ভূমিকা পালন করবে সে সম্পর্কে আমার অনভিজ্ঞ মতামত উপস্থাপিত করে আপনাদের বিব্রত করব বলে মনস্থির করেছি।
কিন্তু আমার এই ঔদ্ধত্য সম্পর্কে আপনাদের স্বাভাবিক এবং সহজবোধ্য সন্দেহজনক মনোভাব হয়ত আমি দূর করতে পারি, যদি ব্যবহারিক বিজ্ঞান সম্বন্ধে আমার মনোভাব
-
লেখক: মীর মোশাররফ হোসেনআমরা বরং ‘অংক’ নিয়ে কথা বলি। ছোটবেলায় গণিতকে আমরা বেশিরভাগ সময়ই ‘অংক’ বলতাম। আমরা কেন, বোধকরি সিংহভাগ শিক্ষার্থী এখনও একে এ নামেই চেনে। অথচ ‘অংক’ হচ্ছে ‘গণিত’ এর যুক্তি বোঝানোর প্রতীক। গণিত যদি ভাষা হয়, অংক তাহলে অক্ষর; গণিত যদি যুক্তি হয়, অংক তাহলে ‘টুলস’।ছোট্ট এই পার্থক্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার দৈন্য। গণিতের ক্ষেত্রে যা ‘ভয়াবহতম’।II ১ IIঅন্য আলোচনায় ঢোকার আগে প্রথমে আমরা কিছু অনুষঙ্গ খুঁজি। এই যেমন গণিতে ‘ভালো’ হলে কি কি হয়? যেসব দেশের ছেলেমেয়েরা যুক্তিবাদী এবং অনুসন্ধিৎসু, সেসব দেশ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় বিজ্ঞান, বিশেষত গণিত শিক্ষায়। অধুনা ইউরোপ -
আমরা পাঁচ বন্ধু এ পাড়ায় ক্ষুদে বিজ্ঞানীর দল হিসেবে পরিচিত। আমরা সবসময়ই নানা ধরনের গবেষণা নিয়ে মেতে থাকি। এসব গবেষণা করতে গিয়ে প্রতিদিনই কারো না কারো বাসায় কিছু না কিছু অঘটন ঘটছেই। তাই আমাদের নিয়ে বাবা মায়েদের অভিযোগের শেষ নেই। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট রিমঝিম এবার ক্লাস ফোরে পড়ে। সেদিন রিমঝিম ডিমের উপর দিয়ে হাঁটার পরীক্ষা করতে গিয়ে বেশ কিছু ডিম নষ্ট করেছিল, সেজন্য সাজাও পেয়েছে। আমাদের নানা প্রশ্নের অত্যাচারে স্কুলের শিক্ষকরাও বিরক্ত। আমার বড় হয়ে অ্যাস্ট্রনট হওয়ার ইচ্ছা। মহাকাশচারী হয়ে গ্রহ থেকে গ্রহে ঘুরে বেড়াব আর গবেষণা করব।
আমাদের মধ্যে প্রকৃত বিজ্ঞানী সায়ন। ওর ঘরে ঢুকলেই তা বুঝতে পারা
-
লেখক: ডা. মো. তোফায়েল হোসেনআয়রন ঘাটতি জনিত রক্তাল্পতা এ সমস্যার প্রতিপাদ্যে দেখা যাচ্ছে দেহে আয়রনের ঘাটতি আছে এবং এ কারণে রক্তাল্পতা ধরা পড়েছে। চায়ে চিনি কম পড়লে আমরা চিনি দেই, তরকারীতে নুন কম পড়লে আমরা লবণ দেই, মোটর সাইকেল বা গাড়িতে পেট্রোল-অকটেনের অভাব পড়লে আমরা পেট্রোল-অকটেন ভরাই, মবিলের দরকার হলে মবিল দেই, ফুটা দিয়ে তেল পড়লে আমরা ফুটা ঠিক করাই, গাড়ির চাকার হাওয়া লিক করলে ছিদ্র সনাক্ত করে ঠিক করাই।আয়রন কোথায় থাকে? আয়রন হিমোগ্লোবিনের হিম অণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে। এ ছাড়া আয়রন মায়োগ্লোবিনের অংশ। বিভিন্ন কোষকলায় এনজাইম হিসাবে কাজ করে। জমা থাকে ফেরিটিন ও হিমোসাইডেরিন আকারে অস্থিমজ্জায়, লিভার
-
বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা সম্ভব কি না, অথবা এর আদৌ প্রয়োজন আছে কি না, সে নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। সম্প্রতি এমন আরও একটি ধারাবাহিক বিতর্ক ঘনিষ্ঠভাবে দেখার সুযোগ হলো, যে কোন বিতর্কের অনাকাঙ্খিত ব্যক্তিগত আক্রমণগুলো বাদ দিলে এই বিতর্কে বিজ্ঞান শিক্ষা, সমাজে বিজ্ঞান চেতনার বিস্তার এবং সাধারণভাবে এগুলোর সাথে মাতৃভাষায় শিক্ষার সম্পর্কের প্রশ্নটি উঠে এসেছে দারুণভাবে। এই বিতর্কটির সবচে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি ছিল দেশে এবং বিদেশে অগ্রগণ্য কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণার সাথে জড়িত ব্যক্তিত্বদের পর্যবেক্ষণজাত মতামত এবং পরামর্শ।
শুরুটা হয়েছিল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদীর একটা প্রশ্ন থেকে, বাঙলায় সেটা দাঁড়াবে এমন: তো ছেলে-মেয়েরা, বিজ্ঞানকরার সময়ে
ট্যাগ
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.