১৯০২–১৯৫৭
সুনির্মল বসু
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
See more >>-
আজি এ প্রভাতে আলোর প্রপাতে
আমরা করিব স্নান,
জ্যোতির্ময়ের বন্দনা করি’
ছন্দে ধরিব গান।
প্রার্থনা মোরা করিব সবাই—
এসো এসো সুন্দর,
সরস পরশে বিকশিত কর
আমাদের অন্তর।
আমাদের মন কর নিস্পাপ,
সন্তাপ কর দূর,—
চিত্ত মোদের পবিত্রতায়
কর তুমি ভরপূর।
সত্যের শুভ-শুভ্র আলোতে
প্রাণ প্রদীপ্ত হোক,
প্রেম-প্রীতি আর শ্রদ্ধা-বিনয়ে
হৃদয় ভরিয়া রোক।
মানবজীবন কর সার্থক,—
দেহে মনে দাও বল—
প্রথম প্রভাতে এই প্রার্থনা
করি কিশোরের দল।
-
বৈশাখে আজ ঐ শাখে দ্যাখ্,
ফুটলো রঙের ফুলঝুরি;
দোল দিয়ে যায় আলতো বাতাস,
হাতছানি দেয় লালচে আকাশ,
স্বপন-লোকের পাচ্ছি আভাস—
আজকে সকল দিক জুড়ি'।
ফুটলো রঙের ফুলঝুরি।
বৈশাখে আজ বই রেখে আয়
বৈঠা হাতে ধর্ চেপে,
চল চলে যাই মাঝ-দরিয়ায়,
প্রীতির রঙে প্রাণ ভরি আয়,
খুশির নেশায় গান ধরি আয়,
সবাই মিলে যাই ক্ষেপে;
বৈঠা হাতে ধর্ চেপে॥
নদীর ওপার অধীর হ’ল
আবীর-গোলা রঙ মেখে,
ঝর্না ঝরে সোনার আলোর,
রংমশালের রঙীন ঝালর
দুলিয়ে দিয়ে আজ হ’ল ভোর,
জানিয়ে দিল সঙ্গে কে?
সাজলো ধরা রং মেখে।
শঙ্খ বাজে পাখীর গলায়,—
শঙ্খচিলের কণ্ঠেতে,
আসলো আজি মনোহরণ,
রঙীন গড়ন নবীন ধরন,
আমরা তারে
-
আবছায়া চারিদিক, ঝাপসা নিঝুম,
পউষের ভোরবেলা—ভেঙে গেল ঘুম।
উষার দুয়ারে এক তুষারের ঢেউ
কখন পড়েছে ভেঙে, জানে না তা কেউ।
ঝিমঝিমে হিম-হাওয়া বয় বার বার,
দিকে দিকে বাজে যেন শীতের সেতার।
অশথগাছের ফাঁকে অতি মনোহর
মিঠে রোদ বেঁকে পড়ে দাওয়ার উপর;
জড়সড় দেহ মোর,—বড় শীত ভাই,
রোদ-ছাওয়া দাওয়াটায় বসি এসে তাই;
দুরে দেখি ফাঁকা মাঠে আলো ঝলমল,
শালিখের ঝাঁক সেথা করে কোলাহল।
ছোট টুনটুনি পাখী কাতর বেজায়,
ভিজে ঘাসে কি যে খোঁজে, শরীর ভেজায়।
কে ডাকে করুণ সুরে—শুনিস না তুই?
খাবার খুঁজিয়া ফেরে চপল চড়ুই।
বখরা লইয়া যত ঝগড়াটে কাক।
ঘরের খড়ের চালে করে হাঁকডাক।
আমাদের ছোট দীঘি ঐ দেখা
Page 1 of 1
ক্যাটাগরি
উৎস
আর্কাইভ
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
