পৃথিবী বিজেতা গাধা
এক গরীবলোক ছিল, যার না ছিল বাড়িঘর, না ছিল জমিজমা, ছিল কেবল এক রোগা বুড়ো গাধা। লোকটি একদিন শুনল যে দুনিয়ায় এমন এক দেশ আছে যেখানে কেই কখনও গাধা দেখেনি।
‘সেখানেই নিয়ে যাব আমার গাধাটাকে, হয়ত সেখানে কেউ কিনে নেবে ওটাকে আমার কাছ থেকে।’ ভাবল লোকটি।
গাধার পিঠে বসে সে সেই দেশ খুঁজতে বেরোল। অনেক পাহাড়, উপত্যকা, হ্রদ পেরিয়ে শেষে খুঁজে পেল সেই দেশটা যেখানে কেউ কখনও গাধা দেখে নি।
তারা শহরে ঢোকামাত্রই শহরবাসীরা ছুটে এল চারদিক থেকে সেই অদ্ভুত জীবটাকে দেখতে। হঠাৎ জোরে ডেকে উঠল গাধাটা। গাধার সেই কান ফাটান চিৎকারে ভয় পেয়ে পালাল সবাই। গাধাটা প্রাণভরে চিৎকার করে তবে থামল। তখন আবার স্বস্তি পেয়ে লোকে গাধার কাছে এসে তার মালিককে জিজ্ঞাসা করতে লাগল, ‘এ আর কি আশ্চর্য জন্তু?’
‘এ হল পৃথিবীর বিজেতা।’ ধূর্তহাসি হেসে বলল মালিক।
ভিড়ের লোকেদের মধ্যে বাদশাহর অন্তরঙ্গ লোকও ছিল।
‘যদি এ পৃথিবী বিজেতা হয় তো অবিলম্বে বাদশাহকে খবর দেওয়া উচিত। তা না হলে আর কারো হাতে গিয়ে পড়তে পারে।’ বলাবলি করতে লাগল পারিষদরা।
গাধা আর তার মালিককে নিয়ে তারা চলল বাদশাহর কাছে। প্রাসাদের বারান্দা থেকে বাদশাহ দেখল সেই অদৃশপূর্ব জন্তুটিকে। এমন সময় গাধা মাথা তুলে ডাক ছাড়ল আবার।
বাদশাহর মনে হল যেন প্রাসাদের দেয়ালগুলো কেঁপে উঠল। গাধার কান ফাটান চিৎকারে প্রাসাদের আস্তাবলের ঘোড়াগুলো ভয় পেয়ে দড়িদড়া ছিঁড়ে দৌড় লাগাল। হৈচৈ পড়ে গেল। প্রাসাদের লোকজনরা তাড়াহুড়োয় একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দরজা, ফটকগুলোতে ভিড় জমিয়ে তুলল।
এ সবের মাঝেও শান্তভাবে গাধাটা দাঁড়িয়ে আছে দেখে অবাক হল বাদশাহ।
‘আশ্চর্য জন্তু ত! ও বুড়ো, পৃথিবী বিজেতাকে বেচবে নাকি আমার কাছে?’ জিজ্ঞাসা করল গরিব লোকটিকে।
‘বেচব।’
‘কত চাস?’
‘গাধার সমান ওজনের সোনা-রূপো।’
‘কিনে নিন ওটা, হুজুর, যে কোন দেশ জয় করে আপনাকে আরও অনেক বেশি ধনী করে দেবে।’ পরামর্শ দিল বাদশাহর উজীররা।
বাদশাহ গাধাটা কিনতে আদেশ দিল, গরিবলোকটি পেল গাধার সমান ওজনের সোনা-রূপো। বাদশাহর লোকজনরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে কেমন করে পৃথিবী বিজেতার পরিচর্যা করা দরকার, কি খাওয়ান দরকার।
‘পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন আস্তাবলে রাখতে হবে বিচালিকুচি, যব আর কিসমিস। আর জল খাওয়াতে হবে আস্তাবলেই বালতি করে। যখন বাদশাহর যুদ্ধ করার ইচ্ছা হবে তখন পৃথিবী বিজেতাকে আস্তাবল থেকে বার করে এনে শত্রুর দিকে ছেড়ে দিতে হবে। দেখবেন তখন, কি হয়।’ বলল গরিব লোকটি।
সোনারূপো পেয়ে লোকটি দুটো ঘোড়া কিনল। বাকি সোনারূপোগুলো থলিতে ভরে নিয়ে ফিরে চলল নিজের দেশে।
বাদশাহ যে পৃথিবী বিজেতাকে কিনেছে এ খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল আশপাশের দেশগুলিতে। প্রতিবেশি রাজ্যের বাদশাহরা জানতে পারল যে পৃথিবী বিজেতাকে এখন খাইয়ে-দাইয়ে মোটা-সোটা করা হচ্ছে, কিছুদিন বাদেই তাকে দিয়ে অন্যান্য দেশ জয় করান হবে।
সেই বাদশাহদের একজন ভাবল: ‘যতক্ষণে ওরা পৃথিবী বিজেতাকে খাইয়ে-দাইয়ে তৈরী করছে তার মধ্যেই কাজ সারতে হবে।
এক রাতে সে নিজের সব সৈন্য নিয়ে এসে গাধার মালিক যে বাদশাহ, তার শহর ঘিরে ফেলল।
শহরটা ছিল এক উঁচু পাহাড়ের ওপরে। সকালে শহরবাসীরা দেখে অসংখ্য শত্রু সৈন্য ঘিরে ফেলেছে তাদের।
শহর অবরোধের কথা জানতে পেরে বাদশাহ আদেশ দিল পৃথিবী বিজেতাকে নিয়ে এসে শত্রুদের ওপর ছেড়ে দিতে।
এ পর্যন্ত গাধাকে এক বারের জন্য বার করা হয় নি আস্তাবল থেকে। খাওয়ান হয়েছে কেবল কিসমিস, যব আর বিচালিকুচি মিলিয়ে। জল খাওয়ান হয়েছে আস্তাবলেই বালতি করে। খেয়ে খেয়ে গাধাটা এমন মোটা হয়ে গেছে যে আস্তাবলের দরজা দিয়ে বার হতে পারছে না। আস্তাবলের দেওয়ার ভাঙতে হল তাকে বাইরে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments