- প্রক্রিয়াধীন
- ১৯৯০
- ২৭৮
জেলের ছেলে ও গুলেদোর মাছ
এক ছিল জেলে। একদিন সে নদীতীরে এসে ছিপ ফেলে একটা মাছ ধরল। মাছটা কিন্তু যে সে মাছ নয়—সে হল গুলেদোর, সারা শরীর লেজ থেকে মাথা পর্যন্ত ফুলে ঢাকা; পৃথিবীতে তার চেয়ে সুন্দর আর কিছুই নেই। খুশী হযে জেলে বঁড়শী থেকে মাছটা খুলে নিয়ে দেখতে লাগল সে তাকে মুগ্ধ হয়ে, হঠাৎ মাছটা তার হাত ফসবে পালিয়ে গেল জলের মধ্যে।
সেই থেকে জেলের মন থেকে সুখ আনন্দ বিদায় নিল। বাড়ি ছেড়ে চলে গেল সে নদীর ধারে, সেখানেই একটা কুটির তৈরী করে থাকতে লাগল; সারাদিনরাত নদীতে ছিপ ফেলে বসে থাকে। কিন্তু গুলেদোর মাছ আর পড়ে না তার ছিপে কিছুতেই। তেমনি করে নদীর ধারেই একদিন মরে গেল জেলে।
সেই জেলের এক ছোট ছেলে ছিল। সে যখন বড় হল মাকে বলল, ‘এবার একটা কোন কাজে লাগা উচিত আমার। আমার বাবা কি কাজ করতেন বল মা, আমিও সেই কাজই করব।’
‘বাছা রে, তোর বাবা কি করতেন সে কথা জানতে চাস না।’ মা উত্তর দিল।
কিন্তু ছেলেটির ভীষণ আগ্রহ হল জানার জন্য। তখন তার মা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ‘যদি তুই জানতে চাস কি কারণে তোর বাবার মৃত্যু হয়েছে তো ঘরের ছাদের দিকে দেখ।’
ছাদের দিকে তাকিয়ে ছেলের বাবার ছিপগুলোকে দেখতে পেল।
‘আমার বাবা মাছ ধরতেন!’ উৎসাহিত হয়ে বলল ছেলে। ‘আমিও তাহলে মাছ ধরার কাজ করব!’
ছাদের থেকে ছিপগুলো পেড়ে আনল, বঁড়শীর জং পরিষ্কার করল, তেল মাখাল। সকালবেলায় মাকে বলল, ‘আমার সঙ্গে নেবার জন্য রুটি তৈরী করে দাও, মাছ ধরতে যাব।’
‘নদীতে যাস না রে বাছা!’ বারবার বোঝাতে লাগল তার মা কিন্তু কোন কাজ হল না তাতে; খাবার তৈরী করে তার সঙ্গে দিয়ে তাকে রওনা করিয়ে দিয়ে বলল, ‘তাড়াতাড়ি করে ফিরে আসিস!’
জেলের ছেলে নদী তীরে এসে জলে ছিপ ফেলল। ছিপে টান দিয়ে তুলল একটা মাছ।
যে সে মাছ নয় সেটা—গুলদোর, সারাশরীর ফুলে ঢাকা; তার আঁশগুলো রোদের আলোয় ঝলক দিচ্ছে; পৃথিবীতে তার চেয়ে সুন্দর আর কিছুই নেই।
জেলের ছেলে মাছটাকে নিয়ে একটা ভেজা রুমালে জড়িয়ে ছুট দিল বাড়ীর দিকে।
‘মা গো, দেখ কি পেয়েছি আমি!’ চিৎকার করে বলল সে। দেখ শীগগির—এ হল গুলদোর মাছ।
সে কথা শুনে অবাক হল মা, কিন্তু যখন গুলদোর মাছ দেখল তখন তার সৌন্দর্যে অভিভূত হল।
‘না, এমন মাছকে রান্না করব না, চল ওকে আমাদের চৌবাচ্চায় ভাসিয়ে দিই।’ বলল মা।
চৌবাচ্চায় গুলদোর মাছটাকে ছেড়ে তারা মুগ্ধ হয়ে দেখতে লাগল কেমন আপাদমস্তক ফুলে ঢাকা মাছটা সাঁতার কাটছে।
প্রতিবেশীদের ডেকেও দেখাল তারা মাছটা সন্ধ্যা পর্যন্ত দেখল সবাই মাছটা যতক্ষণে না সূর্য নামল আর গুলদোর জলের নীচে চলে গেল ঘুমোবার জন্য।
ভোরের আলো সবে ফোটামাত্র ফটকে কে যেন ধাক্কা দিল। জেলের ছেলে ফটক খুলে আপাদমস্তক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাদশাহর কয়েকজন চর।
‘হুজুর জেনেছেন যে তুই ধরেছিস গুলদোর মাছ, যার চেয়ে সুন্দর আর কিছুই নেই পৃথিবীতে।’ বলল চররা। ‘হুজুরের আদেশ যেন তুই অবিলম্বে গুলদোরকে প্রাসাদে পৌঁছে দিয়ে আসিস।’
করার কিছু নেই: জেলের ছেলে একটা জলভরা পাত্রে মাছটাকে নিয়ে তার ওপর একটা ভিজে ন্যাকড়া চাপা দিয়ে নিয়ে চলল প্রাসাদে।
বাদশাহ আদেশ দিল গুলদোর মাছটাকে প্রাসাদের জলাধারে ছেড়ে দিতে। জলাধারের পরিষ্কার জলে মাছটার আঁশের ওপরের ফুলগুলো সূর্য্যালোকে ঝকঝক করতে লাগল। মাছটার দিকে তাকিয়ে আনন্দ আর গর্ব নিয়ে আদশাহ বলতে লাগল, ‘পৃথিবীতে কারো এমন মাছ নেই! পৃথিবীতে আমার গুলদোর মাছের মত এমন সুন্দর আর কিছুই নেই!’
বাদশাহ আদেশ দিল
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments