- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
শক্তের ভক্ত
রাত্রি বাজে নটা। ডাক্তারবাবু তাঁর ডাক্তারখানায় বসে আছেন। মেজাজটা বিশেষ ভালো নয়। সেই কখন থেকে বসে আছেন, একটা রোগীও আসে না। আজ হলো কি? দেশে রোগ-শোক সব দূর হয়ে গেল নাকি?
অবশেষে একজন দেখা দিল। ডাক্তারবাবু একটু তাজা হয়ে উঠে বসলেন। কিন্তু সে লোক যখন ঘরে এসে ঢুকল, তাকে দেখেই ডাক্তারবাবু মনটা বিগড়ে গেল। লোক নয়, মেয়েলোক—ও পাড়ার কেলোর মা। গরীবের বেহন্দ। একটা পয়সা দেবার ক্ষমতা নেই।
কেলোর মা ঘরে ঢুকেই একেবারে কেঁদে পড়ল, ডাক্তারবাবু গো, আমার কেলোর জ্বর যে কেরমেই বেড়ে চলেছে। কেমন-যে করছে, ডাকলে সাড়া দেয় না। আপনি একবার চলো।
ডাক্তারবাবু মুখ খিঁচিয়ে উঠলেন। এঃ একটা পয়সা দেবার নাম নেই, উনি এসেছেন ডাক্তার ডাকতে। যা যা, আমি যেতে পারব না।
কেলোর মা এবার তার আঁচলের তলা থেকে একটা শিশি বের করে বলল, তবে আপনি একটু ওষুধই দিয়ে দাও।
পাঁচ আনা পয়সা লাগবে। দিতে পারবি?
পাঁচ আনা কি গো! আমার-যে পাঁচটা পয়সা ঘরে নেই। আপনি এখন এমনিতেই দিয়ে দাও। আমার কেলো সেরে উঠুক, ও আপনার পয়সা শোধ করে দেবে।
ভাগ, আমি বিনি পয়সায় ঔষধ দিতে পারব না।
কেলোর মা ডাক্তারের মুখের দিকে চেয়ে বুঝতে পারলে, সুবিধা হবে না। সে কাঁদতে কাঁদতে ঘরে ঢুকেছিল, কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে গেল।
ডাক্তারবাবু বসেই রইলেন, কিন্তু আর কেউ আসে না। দেয়াল ঘড়িতে টং করে সাড়ে নটা বাজল। এমন সময় কেমন বিচ্ছিরি একটা জংলা আর বোঁটকা গন্ধ পেয়ে ডাক্তারবাবু নাক সিঁটকে বললেন: রামোঃ, কি যেন পচেছে। আর তখুনি কে যেন হেঁড়ে গলায় ডেকে উঠল, ডাক্তারবাবু!
ডাক্তারবাবু ডাক শুনে চমকে উঠে চেয়ে দেখেন, টেবিলের সামনে একটা কি যেন বসে আছে। ও কি রে বাবা! তার বুকটা ভয়ে কেঁপে উঠল। বাতিটা উসকে দিতেই একেবারে চোখে চোখ মিলে গেল! এ্যাঁ, এ যে মস্ত বড় একটা বাঘ। একেবারে আসল বাঘ। এই এত্ত বড় একটা মাথা। ভাটার মতো চোখ দুটো। আর ইয়া লম্বা গোঁফ। ডাক্তারবাবু আঁতকে উঠে আঁউ আঁউ করতে লাগলেন।
বাঘ বলল, ডাক্তারবাবু ভয় পেয়ো না। আমি তোমাকে কিছু বলব না। আমি যে তোমার রোগী।
বাঘের মুখে দিব্যি মানুষের মতো কথা শুনে ডাক্তারবাবুর সাহস একটু ফিরে এলো। বুকের ধড়ফড়ানিটা একটু সামলে নিয়ে তিনি বললেন, রুগী! বাঘ আবার কখনো রুগী হয় নাকি? রোগ তো হয় মানুষের।
বাঘ বলল, তুমি সত্যি কথাই বলেছ। আগে নিয়ম তাই ছিল বটে। কিন্তু এখন দিন বদলে গেছে। বুড়োদের মুখে শুনেছি, তাদের সময় মানুষগুলো সুস্থ সবল ছিল। তাদের খেলে পরে কিছু হতো না। কিন্তু এখনকার মানুষ একেবারে রোগের বাসা। এখন যে সব বাঘ মানুষ খায় তাদের কারু স্বাস্থ্যই ভালো নয়। একটা না একটা গোলমাল আছেই। আমার অবস্থাটাই দেখ না।
কি হয়েছে তোমার?
কি হয়েছে? কি হয়েছে কেমন করে বলব, সে তোমরা ডাক্তাররাই জানো। পেটে বিষম কামড়ানি। একটু খেয়েছি কি অমনি ওরে বাবা, সে কি যন্ত্রণা! তখন আর চুপ করে থাকতে পারি না। কেঁদে-কেটে চেঁচিয়ে-মেচিয়ে সবাইকে পাগল করে তুলি। বাঘিনী রোজই বলে, তুমি একবার ডাক্তারের কাছে যাও। শেষে আর সহ্য করতে না পেরে তোমার কাছেই এলাম। ডাক্তারবাবু, আমাকে একটু ভালো দেখে ওষুধ দিয়ে দাও।
কথা বলতে বলতে ডাক্তারবাবুর ডর-ভয় তখন একদম চলে গেল। তিনি বললেন, ওষুধ আমি দিতে পারি, কিন্তু আমরা তো টাকা-পয়সা ছাড়া চিকিৎসা করতে পারি না। এই তো আমাদের ব্যবসা।
বাঘ বলল, সে তো ঠিকই। তুমি আমার বেদনাটা সারিয়ে দাও, আমি তোমাকে খুশি করে দেব।
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
সত্যেন সেন
বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামের এক বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী পরিবারে ১৯০৭ সালে সত্যেন সেনের জন্ম। অল্প বয়সেই তিনি অসহযোগ আন্দোলনে ও পরে সন্ত্রাসবাদী দলে যোগ দেন। ছাত্রজীবন শেষ হতে না হতেই তাঁর জেল-জীবনের শুরু। ১৯৩১ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজবন্দী হিসেবে বিভিন্ন জেলে আটক থাকেন। জেলে বসেই তিনি এম.এ পরীক্ষায় উর্ত্তীণ এবং
আরও দেখুন...-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments