দীওয়ান-ই-হাফিজ
(১) কোন বেদনায় নিলাম বিদায়
কোন বেদনায় নিলাম বিদায় ‘দিলজানী’ আর দিল জানে
বদ-নসিবের দানাদানি টানছে সে কোন দূর টানে॥
তোমার সিঁথির মতির মতন নজর দেবো অশ্রু বুঁদ।
সেই দূতীরে, সালাম তোমার পৌঁছাবে যে মোর পানে॥
এসো প্রিয়া, আশিস মাগি, আমার সাথে হাত ওঠাও,
তোমার প্রাণে বিশ্বাস আসে, আসেন খোদা মোর ত্রাণে॥
মোদের পরে জুলুম যদি করেই জাগে ঈর্ষাতুর,
ভয় কী সখী, মোদের খোদা শোধ নেবে তার সেইখানে॥
তোমার শিরের কসম শিরিঁ তোমার নেশা টুটবে না,
যদিই ‘তামাম জাহান’ জুটে শির পরে মোর তির হানে॥
জান কি সই, কেনই আমায় ফেরায় গ্রহ দিগ্বিদিক?
তোমার পানে মন টানে মোর, ঈর্ষা জাগে ওর প্রাণে॥
ব্যথিত আমি, বুকের আমার ব্যথার খবর দেয় গো ওই
তৃষ্ণার্ত ঠোঁট সিক্ত আঁখি শুষ্ক মুখের উদ্যানে॥
খুবসুরত ওই রূপের তারিফ লিখনু যেদিন, সেই হতে
আমার বইয়ের পাতার কাছে ফুলের পাতা হার মানে॥
‘মাশুক’ আমার আসুক ফিরে সুস্থ দেহে জলদি গো,
আসবে হেসে কখন পাশে শিস দেবে সুখ সিস্তানে॥
দোহাই খোদার! কোথায় হাফিজ, যদিই গো কেউ জিজ্ঞাসে,
বলো— পথিক গেছে কেঁদে আমা হতে দূর পানে॥
(২) নৌ-জোয়ানির জৌলুসে ফের গুলজার
নৌ-জোয়ানির জৌলুসে ফের গুলজার আজ গোলেস্তান
ফুল-কিশোরীর খোশখবরি গায় বুলবুল খোশ এলহান
যৌবনাতুর ফুলকুঁড়ি-বাস যাচ্ছ মলয় ঘোড়সওয়ার,
সরো গোলাব জুঁই কলিদের কই যে কি মোর নমস্কার।
চাঁদ চেহেরায় ম্লান কোরো না কস্তুরী-কেশ-ধূপছায়ায়,
চুনোট চুলের খুনসুড়ি তোর করবে এবার খুন আমায়!
মদপায়ীদের নিত্য যারা বদনামী গায়, হচ্ছে ভয়,
এই খারাবির খেয়াল-সুখই ইমান তাদের করবে ক্ষয়।
খোদার প্রিয়ের হও প্রিয়তম্— আছেন মাঝি ‘নোহের’ না-র
সিন্ধুকে যে বিন্দু ভাবে তুফান যাঁহার হুকুম চায়!
শনির সরাই দুনিয়া-খানার পাতিসনে হাত, পালিয়ে আয়;
অতিথ এলেই কঞ্জুস এই কাফের করে কতল তায়!
মদ- পূজারি বাচ্চা-শুঁড়ি পুতুল যদি হয় আমার,
নয়ন-পাতায় করব ঝাডু শরাব-পানার দোরের তার!
‘সোহ্হম সত্য’ ‘জগৎ মিথ্যা’ গণ্ডূষে যদি নাও শুষে ও
দেহ দেউলের কণা রহস্য বুঝতে নারবে বন্ধু কেউ!
আখের যাহার সম্বল ভাই দু-মুঠো মাটির নিঁদ-মহল,
বল সে বেকুবে, গগন-চুম্বী সাত মহলাতে তার কী ফল?
হে মোর বন্দি কিনানের চাঁদ! মেসেরং আজ তব দন্ডাধীন,
কারাবাসে এবে বিদায় বলিয়া হও এসে সখা তখত-নশিন।
জানিনে লো তোর এলো কুন্তলে কী খেয়াল খেলে এলোমেলো,
আম লো! শ্যামল কস্তুরী-কেশ দিনে কতবার আলগেলো!
মুক্তি-মুলুক, সবুরীর কোঠা এমন অজেয় উচ্চশির
জিনিবে তা বলে নাই হেন বল শত বাদশার তরবারির।
মদ্পি হাফিজ, মস্তানি চালা, বাস নেচে গেয়ে কাটুক কাল!
অন্যের মতো কোরো না কোরান ফেরেব-বাজির ফন্দি-জাল!
দিলজানী: প্রিয়তমা
বদ-নসিব: ভাগ্যহত
নজর: উপহার
কসম: দিব্যি
তামাম জাহান: সারা বিশ্ব
মাশুক: প্রিয়া
এলহান: মধুর স্বর
না-র: নোয়া বা নূহের নৌকা
অনুবাদ: কাজী নজরুল ইসলাম
দীওয়ান-ই-হাফিজ
হাফেজ শিরাজি
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments