পরাভব না-মানা কাজী আবদুল বারী
জন্ম: কাজী আবদুল বারী [মাসুক মিয়া) ১৯৩৫ সালের' ২১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার মাতুলালয় কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার দশপাড়া গ্রামের খোন্দকার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতৃভূমি কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম। পিতা অষ্টগ্রাম সদরের কাজী পাড়ার কাজীবাড়ির সন্তান কাজী আবদুল আউয়াল ও মাতা কুমিল্লার দেবীদ্বার থানার দশপাড়া গ্রামের পীর খোন্দকার কবীর উদ্দিনের কন্যা আফরোজা বেগম। কাজী আবদুল আউয়াল ছিলেন অষ্টগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান শিক্ষক। পরে তিনি প্রথমে খাদ্য পরিদর্শক ও শেষে ময়মনসিংহ জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট হিসেবে আইন পেশায় যোগদান করেন।
শিক্ষা: নিজ গ্রাম অষ্টগ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হলেও দু'তিন বছরের মধ্যেই কাজী আবদুল বারী তার পিতার কর্মস্থল ঢাকার আরমানিটোলা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরে ১৯৪৯ সালে তার পিতা ময়মনসিংহে এসে আইন পেশায় যোগদান করলে তিনিও পিতার সঙ্গে ময়মনসিংহে এসে জেলা স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ১৯৫২ ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে আনন্দমোহন কলেজে ভর্তি হন। বার বার গ্রেফতার ও কারাবাস এবং সর্বোপরি পিতৃবিয়োগের ফলে তার শিক্ষাজীবন বিঘ্নিত হয় এবং ১৯৫৬ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে তিনি ডিগ্রি ক্লাসে ভর্তি হন। পরে শিক্ষা জীবন অসমাপ্ত রেখেই তিনি কলেজ ত্যাগ করেন।
আন্দোলন-সংগঠন-নির্যাতন: ধারণা করা হয়, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার অধিবাসী ও জেলা স্কুলের তৎকালীন শিক্ষক সুনির্মল বাবুর সাহচর্য ও অনুপ্রেরণায় কাজী আবদুল বারী প্রগতিশীল চিন্তাধারার সঙ্গে পরিচিত হন এবং স্কুলজীবনেই বামপন্থি আন্দোলন ও রাজনীতি সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৫২ সালে স্কুলের ছাত্র অবস্থায় ভাষা আন্দোলনে যোগদানের অপরাধে গ্রেফতার হয়ে তিনি প্রথম জেলে যান। ১৯৫৩ সালে তিনি ময়মনসিংহ শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার গুণে ১৫৫৫ সালে তৎকালীন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৫৬ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হন। এ সময় পাকিস্তানের রাজধানী করাচিতে অনুষ্ঠিত এক ছাত্র-গণ সমাবেশে পূর্ববাংলার শিক্ষা ও জনজীবনের দুরবস্থার চিত্র বর্ণনা করে ইংরেজিতে বক্তৃতা করে তিনি সব মহলের প্রসংশা অর্জন করেন। আনন্দমোহন কলেজে অধ্যয়ন- কালে তিনি 'প্রগতি' নামে একটি সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে ছাত্রদের মধ্যে প্রগতিশীল ধ্যান-ধারণা প্রচার করতেন। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং পরপর দু'বার আনন্দমোহন কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি [ভিপি] নির্বাচিত হন।
১৯৫৪ সালের হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীর যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার কাজে অনলবর্ষী বক্তা তরুণ কাজী আবদুল বারী সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সে বছর ২১শে ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে সারা দেশে পরিচালিত গ্রেফতার অভিযানের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহে ১৯ ফেব্রুয়ারি ভোরে অন্যদের সঙ্গে কাজী বারীকেও গ্রেফতার করা হয়। নির্বাচনের পর একমাস পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি কারাবাস থেকে ছাড়া পেলেন বটে, কিন্তু নির্বাচিত যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শেষ না হতেই নারায়ণগঞ্জের আদমজী পাটকলে সংঘটিত দাঙ্গার অজুহাতে প্রাদেশিক সরকার বাতিল করে গভর্নরের শাসন চালু করা হয়। গভর্নর ১৯৩৫ সালের ভারত সরকার আইনের ৯২-[এ) ধারাবলে শাসনের পাশাপাশি আইন প্রণয়নের ক্ষমতাও নিজের হাতে তুলে নেয় এবং পূর্ববঙ্গে পরিচালনা করে গ্রেফতার অভিযান। আবারো গ্রেফতার হন কাজী বারী এবং মুক্তি পান বছর দেড়েক পর।
আনন্দমোহন কলেজে অধ্যয়নকালে সহপাঠী ও বন্ধু আজিজুর রহমান খান [পরে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশের প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য। ও সাঈদুর রহমান খসরুর [পরে বিশিষ্ট চক্ষু চিকিৎসক] মাধ্যমে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে আসেন। পুলীন বকসী, আলতাব আলী, নগেন সরকার প্রমুখের সান্নিধ্যও তাকে কমিউনিস্ট হতে আগ্রাহান্বিত করে। তবে জেলে বসেই তিনি কমিউনিস্ট হওয়ার প্রকৃত সবক পান এবং এবার দেড় বছরকাল কারাবাস করে [১৯৫৫/৫৬ সালে। যখন মুক্তি পান তখন তিনি হয়ে ওঠেন 'পুরো দস্তুর কমিউনিস্ট'। ১৯৫৮ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির ময়মনসিংহ জেলা কমিটির
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments