যোগাযোগ-ব্যবস্থা : জলপথ

পোর্তুগিজ বণিকেরা সপ্তগ্রাম বন্দরে আসে ১৫৩০ থেকে ১৫৩৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। সেখান থেকে তারা ১৫৭৮ কিংবা ১৫৮০ সনে হুগলিতে যায়। ইংরেজরা বাংলাদেশে প্রথম বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে হুগলিতে, ১৬৫১ খ্রিস্টাব্দে। ডাচেরা চুঁচড়ায় তাদের কুঠি স্থাপন করে প্রায় ওই সময়েই। হুগলি শহরে ইংরেজদের কুঠি থাকায় ও হুগলি শহর ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় ইংরেজরা ভাগীরথী বা গঙ্গানদীর নাম রাখে হুগলি নদী।

পোর্তুগিজদের ও ডাচেদের ৬০০ টনের কাঠের তৈরি পালের জাহাজ (Gally or Gallcon or Galleass) সাগরমুখ (Sindhead) থেকে হুগলি নদী দিয়ে প্রথম গার্ডেনরিচ ও বেতর পর্যন্ত চলে আসত, নদীতে অনেক বিপজ্জনক বাঁক ও চড়া থাকা সত্ত্বেও। পরে পোর্তুগিজ জাহাজ হুগলি ও ডাচ জাহাজ চুঁচড়া পর্যন্ত অনায়াসেই পৌঁছাতে পারত। এটা তারা করতে পারত তাদের সুশিক্ষিত পাইলটদের গুণে। কিন্তু ইংরেজদের জাহাজ হুগলি শহর তো দূরের কথা, গার্ডেনরিচ পর্যন্তও আসতে পারত না। টন-প্রতি মালের বেশি ভাড়া দিয়েও ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বিশেষ সুবিধে করতে পারল না। তখন কোম্পানির ডিরেক্টরগণ বুঝলেন, বিশেষ শিক্ষাপ্রাপ্ত পাইলটের অভাবেই তাঁদের জাহাজের এই ব্যর্থতা। তাই ১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে তাঁরা 'হুগলি পাইলট সার্ভিস প্রতিষ্ঠা করেন। তার ১০-১১ বছর পরে ১৬৭৮ কিংবা ১৬৭৯ সনে ক্যাপ্টেন স্টাফোর্ড (Captain Stafford)-এর নেতৃত্বে প্রথম ইংরেজ জাহাজ ‘ফ্যালকন’ (Falcon) কলকাতার পাশ দিয়ে (যদিও তখনও কলকাতায় ইংরেজ কুঠি স্থাপিত হয়নি) হুগলি পর্যন্ত যায়। গ্যাঞ্জেস পাইলট সার্ভিস (Ganges Pilot Service)-এখনও আছে। ১৯৬৮-তে ওই সার্ভিসের তিন শতাব্দী পূর্তি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৬৯০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ইংরেজদের স্থায়ীভাবে আগমন ও বসবাসের পর থেকে ইংরেজদের কাঠের তৈরি পালের জাহাজ ক্রমশ বেশি সংখ্যায় কলকাতায় আসতে আরম্ভ করে।

কিন্তু ইউরোপ বা ইংল্যান্ড থেকে এইসব জাহাজ ভারতবর্ষে আসত Cape-পথে, অর্থাৎ আফ্রিকার দক্ষিণে উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে। এই ঘুরপথে আসতে অনেক মাস, কখনও-কখনও একবছরেরও বেশি সময় লেগে যেত।

তাছাড়া পথটাও ছিল বিপজ্জনক। মহিলারাও এ-পথে বড়ো-একটা আসতে চাইতেন না। তাই একটা সংক্ষিপ্ত পথের চিন্তা বা কল্পনা মাথায় আসা স্বাভাবিক ছিল। সংক্ষিপ্ত পথের কল্পনাটা ছিল ইংল্যান্ড ও ভারতবর্ষের মধ্যে আগাগোড়া জলপথ না হয়ে খানিকটা জল ও খানিকটা স্থলপথ (Overland Route)। অর্থাৎ কলকাতা, মাদ্রাজ বা বোম্বাই থেকে জাহাজে চেপে লোহিত সাগরের মধ্য দিয়ে সুয়েজ বন্দরে যাওয়া, সেখান থেকে ইজিপ্টের মরুভূমির উপর দিয়ে উটের পিঠে বা গাড়িতে চেপে কায়রো শহর হয়ে আলেকজান্দ্রিয়া যাওয়া, সেখান থেকে জাহাজ নিয়ে ভূমধ্যসাগরের মধ্য দিয়ে ইংল্যান্ডে পৌঁছানো। এই পথ দিয়ে যেতে পারলে ইংল্যান্ড থেকে ভারতে বা ভারত থেকে ইংল্যান্ডে যাতায়াতের সময় অনেক কম লাগে। এই পথটিকে বলা হতো লোহিত সাগর-সুয়েজ পথ (Red Sea-Sucz Route) |

কিন্তু এই পথের পরিকল্পনা প্রথম কোন লোকের মাথায় আসে? এ বিষয়ে দুটি মত আছে। প্রথম মতে, এই পথের পরিকল্পনা প্রথম করেন হেনরি জনসন (Captain James Henry Johnson) ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দে। ওই বছরে তিনি একটি পুস্তিকা লেখেন। পুস্তিকাটির নাম ছিল ‘A Prospectus for establishing by means of Steam Navigation a Communication with Calcutta and the East Indies generally via the Mediterranean, Isthmus of Suez and the Red Sea’। ১৮২৩ সনে এই পুস্তিকাটি Bolt Court, Fleet Street, London-এর Mr. B. Binsley ছাপিয়ে প্রকাশ করেন। এই পুস্তিকাটি থেকে জানতে পারা যায় যে লোহিত সাগর-সুয়েজ পথের প্রথম নির্দেশক হচ্ছেন ক্যাপ্টেন জেমস হেনরি জনসন—ক্যাপ্টেন টমাস ওয়াগহর্ন নন।

ক্যাপ্টেন জনসন-এর জন্ম হয় ১৭৮৮ খ্রিস্টাব্দে। ১৮০৫ থেকে ১২ বছর তিনি রাজকীয় সামরিক নৌবিভাগে (Royal Navy) নানারকম চাকুরি করেন। ২০-১০-১৮০৫ তারিখে তিনি লর্ড নেলসনের অধীনে ট্রাফালগারের যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। ১৮১৭থেকে তাঁর ভারতীয় জীবন

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice