সেই মেয়েটি
অনুবাদ: আখতার-উন-নবী
সোয়া চারটা বেজে গেছে। কিন্তু রোদের তেজ ঠিক দুপুর বারোটার মতোই কড়া ৷ সে বেলকনিতে এসে বাইরে তাকিয়ে দেখলো, একটি মেয়ে রোদের হাত থেকে বাঁচার জন্য একটি ছায়াদার বৃক্ষের নীচে বড় শ্লথ ভঙ্গীতে বসে আছে ৷
মেয়েটির গায়ের রঙ গাঢ় শ্যামলা। এতো গাঢ় যে, দেখতে তাকে বৃক্ষের ছায়ারই একটি অংশ মনে হয়। সুরেন্দ্র মেয়েটিকে দেখেই কাছে টানার জন্য তীব্র আকর্ষণ অনুভব করলে।। অথচ এই গরমের মধ্যে কাউকে কাছে আকর্ষণ করার মতো বাসনা তার না থাকারই কথা।
সময়টা বড় বাজে। প্রচণ্ড গরম। সোয়া চারটা বেজে গেছে। সূর্য অস্ত যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু সময়টা বড়ই বাজে। দরদর করে ঘাম ছুটছে সারা শরীর থেকে। খোদা জানে লোমকুপ দিয়ে এতো পানি কোথা থেকে ছুটে বেরুচ্ছে।
সুরেন্দ্র বেশ ক’বার গভীরভাবে চিন্তা করে দেখলো, পানি সে বড় জোর চার ঘণ্টার মধ্যে স্রেফ এক গ্লাস পান করেছে। কিন্তু ঘাম কম করে হলেও চার গ্লাস বেরিয়েছে। তা এতো ঘাম কোথা থেকে এলো?
সে মেয়েটিকে এভাবে গাছের ছায়ায় গুটিসুটি মেরে বসে থাকতে দেখে ভাবলো, পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশী সুখী এই মেয়েটিই—যে কিনা প্রচণ্ড রোদ আর বিশ্রী ঋতুকে থোড়াই পরওয়া করে৷
সুরেন্দ্র ঘামে ভিজে একেবারে লতপত হয়ে গেছে। গেঞ্জিটাও তার ঘামে ভিজে শরীরের সাথে লেপ্টে আছে ৷ তার কাছে মনে হলে৷ যেন কেউ তার সারা শরীরে মোবিল অয়েল ঢেলে দিয়েছে। কিন্তু এর পরও সে যখন ছায়াদার বৃক্ষের নীচে বসে থাকা মেয়েটিকে দেখলো তখন তার বড় ইচ্ছে হলে। মেয়েটির ঘামে ভেজা শরীরের সাথে মিলে-মিশে একাকার হয়ে যায়। ওর লোমকূপের ভেতরে ঢুকে পড়ে ৷
আকাশটা ছাই রঙা হয়ে আছে। কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারে না, ওগুলো মেঘ না কুয়াশাচ্ছন্নতা। তা সেই কুয়াশাচ্ছন্নতা কিম্বা মেঘ থাক৷ সত্ত্বেও আকাশে রোদের উজ্জ্বলতার কিছু কমতি নেই ৷ এবং সেই মেয়েটি পরম নিশ্চিন্তে গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছে।
সুরেন্দ্র আবারো গভীর মনোযোগ দিয়ে মেয়েটির দিকে তাকালো ৷ তার গায়ের রঙ গাঢ় শ্যামলা। কিন্তু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো বড়ই তীক্ষ্ণ। এতো তীক্ষ্ণ যে সুরেন্দ্রের চোখের বাণে বেশ কবার বিদ্ধ হলো সে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।
পেশায় মেয়েটি বোধ হয় মজদুরনী। কিম্বা ভিখিরিণীও হতে পারে। সুরেন্দ্র তার সম্পর্কে ঠিক কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারলো না। আসলে সে মনে মনে ঠিক করছিলো, মেয়েটিকে ইশারা করবে কি করবে না।
ঘরে সে সম্পূর্ণ একা ৷ তার বোন মারী গেছে। মাও গেছে তার সাথে। বাবা পরলোক গমন করেছে। একটা ছোট ভাই আছে, সে বোর্ডিংয়ে থাকে। সুরেন্দ্রের বয়েস সাতাশ আটাশের কাছাকাছি হবে। ইতিপূর্বে সে তাদের আধবয়সী ঝি দুটোর সাথে দুতিনবার কাজ করে শেষ করেছে।
কে জানে কেন, তবে বিশ্রী ঋতু হওয়া সত্ত্বেও সুরেন্দ্রের কেন যেন শুধু ইচ্ছে করছিলো গাছের ছায়ায় বসে থাকা মেয়েটির কাছে যেতে, কিম্বা উপর থেকেই তাকে ইশারা করতে। যাতে সে সুরেন্দ্রের কাছে চলে আসে, এবং দু'জন পরস্পরের ঘামের ভেতর ডুবে গিরে কোন এক অজানা দ্বীপে পৌঁছে যেতে পারে।
সুরেন্দ্র বেলকনির উপর কাঠের রেলিংয়ের কাছে দাঁড়িয়ে জোরে গলা খাঁকারি দিলো ৷ কিন্তু তবু মেয়েটির মনোযোগ আকর্ষণ। করতে পারলো না। এরকম বার কয়েক গলা খাঁকারি দেয়ার পরও যখন কোন ফলোদয় হলো না, তখন সুরেন্দ্র কথা বলে উঠলো, “আরে ভাই, একটু এদিকে তো তাকাও৷”
কিন্তু তবুও মেয়েটি তার দিকে তাকালো না। বসে বসে নিজের পায়ের গোছা চুলকাতে লাগলো।
সুরেন্দ্র মহা সমস্যায় পড়লো। মেয়ে না হয়ে যদি কোন কুকুর হতো, তাহলে নিশ্চয়ই তার আওয়াজ শুনে তার দিকে তাকাতো ৷ যদি আওয়াজটা
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments