পুত্র

লেখক: আন দাক

বা আর তার স্ত্রী অনেক রাত পর্যন্ত জেগে বসে রযেছে। বা র বয়স প্রায় চল্লিশ, তার স্ত্রী তার থেকে বছর দুই তিনেক ছোট হবে। একটা খুঁটির গায়ে ঠেস দিয়ে মাদুরের ওপর পা ছড়িয়ে বসে ছিল সে। অনেকক্ষণ তারা চুপচাপই ছিল হঠাৎ মুঠি পাকিয়ে মাটিতে সজোরে একটা ঘুষি মারলো সে।

“আমি এটাই ঠিক করেছি।”

ওর স্ত্রী কিছু বললো না কিন্তু চোখ দুটো তার জলে ভরে গেলো। মুখটা তার করুণ লাগছিল। মাঝে মাঝে পাহারা দেবার উঁচু বুরুজ থেকে ছোঁড়া রাইফেলের এক আধটা গুলির আওয়াজ রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে দিচ্ছিল। “যুদ্ধ পরিচালনার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ছোট একটা গ্রামে” এতো নিত্যকার ঘটনা। দুজনের কেউ ওটাতে কান দিচ্ছিল না। গুলির আওয়াজ থেমে গেলেই, শোনা যাচ্ছিল চাঁচাড়ির বিছানায় শোয়া বছর ষোল কি ওরই কাছাকাছি বয়সের অল্প বয়সী একটি ছেলের নাকের ডাক ৷

পা দুটো মুড়ে বা উঠে দাঁড়ালো, তারপর আড়মোড়া ভেঙে তক্তপোষের দিকে এগিয়ে গেলো। ওর স্ত্রীও উঠে পড়ে ওর দিকে গেলো।

“ওকে যেতে হবে কখন?” ফিসফিস করে সে জিজ্ঞাসা করলো।

“তা এখনও জানি না তবে মনে হয় খুব শীগিগরই। সৈনিক তুর সঙ্গে দেখা করে আগে কথা বলি। তু পাহারা দিতে এলেই ও চলে যাবে।”

“ভগবান!” ওর স্ত্রী আর্তনাদ করে উঠলো। “তোমার হলো কি গিন্নী? তোমরা মেয়েরা অতি সহজেই কাঁদো। ক্রং কে যদি ওরা জোর করে ওদের সেনাবাহিনীতে ভর্তি করে তাহলে কি তুমি খুশি হও?”

ওর স্ত্রী চোখ মুছতে মুছতে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। সে জানে স্বামী তার এক কথার মানুষ: কোনো বিষয়ে একবার মনস্থির করলে, তার আর নড়চড় হবে না কখনও। তাদের ছেলে ক্রং সম্বন্ধে আজ প্রায় দু’ সপ্তাহ ধরে সে তার সঙ্গে কথা বলেছে। সে বলেছে, “যুদ্ধ পরিচালনার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রামে” তাদের ছেলেকে সে কিছুতেই থাকতে দেবে না। ক্রং-এর মা যেন ছেলের জিনিস পত্র সব গুছিয়ে ঠিক করে রাখে, ছেলেকে ওখান থেকে সরাবার ব্যবস্থা সে করবে। “কোথায়?” ওর স্ত্রী জিজ্ঞাসা করেছিল। “মুক্তি ফৌজের সঙ্গে” ওর কানে কানে ফিসফিস করে বলেছিল বা। আরও বলেছিল: “এ নিয়ে অন্য কারও সঙ্গে কথা বলো না, এমন কি ক্রং-এর সঙ্গেও না। ওর জামা কাপড় মেরামত করে দাও, জিনিসপত্র গুছিয়ে দাও। আর ঐ যে দুশো পিঅ্যাসতাব (মুদ্রা বিশেষ) আমরা জমিয়েছি সেটাতে হাত দিও না, ওটা আমরা ছেলেকে দেবো ও যখন যাবে। ও যে আমাদের একমাত্র সন্তান তা আমি জানি, কিন্তু এ ব্যাপারে আমি বেশ ভালো করে ভেবে দেখেছি। ও বেশ শক্ত সমর্থ, আর বয়সটাও বাধ্যতামূলক ভাবে সেনা বাহিনীতে ভর্তির বয়সের কাছাকাছি। জোর করে ধরে সেনাবাহিনীতে ভর্তি করার জন্য যে ভাড়া করা দল আছে তাদের খপ্‌পরে পড়বার শিকার হিসাবে একেবারে তৈরি হয়ে আছে যেন। এ বিষয়ে আমাদের তাড়াতাড়ি মন স্থির করা ভালো, ঐ মুক্তি ফৌজের লোকেদের সঙ্গে যাক, ওকে ওরা মানুষ করে দেবে। ঠিকই, ওরা ওর হাতে রাইফেল দেবে আর সে রাইফেলও দেশদ্রোহীদের মারবার কাজে ব্যবহার করবে। লড়াই করতে করতে ও যদি মারাও যায়, তাহলেও আমি সুখ পাবো।”

প্রথমে যখন ওর স্বামী এ সম্বন্ধে ওর সঙ্গে কথা বলে তখন ও খুবই ভয় পেয়েছিল। যত গুণ্ডাবদমায়েসে ভরা “যুদ্ধ পরিচালনার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ গ্রামের” মত জায়গায় বাস করে ভয় না পেয়ে করবে কি? সত্যি বলতে কি, ও ভয়ে একেবারে কেঁপে উঠেছিল। কিন্তু তারপর এটা নিয়ে সে অনেক চিন্তা করেছে, বুঝেছে বা ঠিকই বলেছে। ক্রং তাদের একমাত্র ছেলে। শীগিগরই ওর

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice