হভেস্কা—ডাক্তারের চৌকিদার
[ভ্যালেনটিনা আইয়োভোভনা ডিমিট্রিয়েভা (১৮৫৯-১৯৪৭) সারাটোভ গুরেবিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন ভূমিদাসের কন্যা। গ্রামার স্কুলে শিক্ষালাভ করে চিকিৎসা বিদ্যা শিক্ষার জন্য ১৮৮৬ সালে তিনি সেন্ট পিটার্সবার্গে যান। গ্রামের একটি স্কুলে শিক্ষকতাকালে জনশিক্ষা ব্যবস্থার শোচনীয় অবস্থার সমালোচনা করে তিনি পত্রপত্রিকায় নানা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। এর ফলে তার চাকরি যায় এবং শিক্ষকতা করার ব্যাপারে তার ওপর চিরকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর পর বহুকাল ধরে তিনি ভোরোনেজ গুবেরনিয়ায় চিকিৎসক হিসাবেই খুবই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করেন।
বহু ঐতিহাসিক ঘটনার তিনি ছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী এবং অংশগ্রহণকারী। ছাত্রদের বৈপ্লবিক মিছিলগুলিতে যোগদান করার জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। ম্যাক্সিম গোর্কি, লিওনিড অ্যানড্রাইয়েভ প্রভৃতি বহু মনীষীর সংস্পর্শে আসার সুযোগ তাঁর হয়েছিল। মস্কো থেকে তাঁকে তভর-এ নির্বাসিত করা হয়। সেখানে পুলিস প্রহরায় তিনি চার বৎসর অতিবাহিত করেন। তৎসত্ত্বেও পরে তিনি তাঁর লেখার এবং বৈপ্লবিক কাজ চালিয়ে যান। বিপ্লব পূর্ব বহু উৎকৃষ্ট মানের পত্রপত্রিকায় ৪৫ বৎসর ধরে তার লেখা প্রকাশিত হয়। তাঁর রচনাগুলিতে রুশ জনগণের আধ্যাত্মিক শক্তির উপর তাঁর অগাধ বিশ্বাস এবং স্বৈরতান্ত্রিক রুশদেশের সমাজ ব্যবস্থা পতনের সম্বন্ধে দৃঢ় বিশ্বাস প্রতিফলিত হয়েছে। ১৯১৭ সালের বিপ্লবকে তিনি মনপ্রাণ দিয়ে গ্রহণ করেছিলেন। সোভিয়েত যুব সমাজ এবং সোভিয়েত সংস্কৃতির জন্য সক্রিয়ভাবে বহু কাজ করেছেন।]
এক অন্ধকার নভেম্বরের সব থেকে অন্ধকারাচ্ছন্ন দিনে খুবই ভযাবহ এক রাস্তা দিয়ে অত্যন্ত রুক্ষ মেজাজে আমি স্টেবেনকি গ্রামে পৌঁছেছিলাম। সেই সময় গ্রামটিতে একজন ডাক্তারের সহকারী ছিল, জেমস্তভো অফিস[১]আমাকে সতর্ক করে দিয়েছিল ওখানে সব কিছুই দারুণ বেবন্দোবস্ত আর অযত্নের মধ্যে রয়েছে আর প্রয়োজনবোধে আমি যদি ডাক্তারের সহকারীকে বরখাস্ত করি তবে কর্তৃপক্ষ কোনো আপত্তি করবে না। সেই জন্য ভালো কিছু দেখবো এ প্রত্যাশা আমার ছিল না, আর স্টেবেনকিতে সব কিছু যে অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় দেখতে পাবো এ সম্বন্ধে আমি ইতিমধ্যেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলাম। ওখানে রাত্রে থাকার একটা জায়গা আর এক গ্লাস চা পাবো কি না তাও জানতাম না। ঠাণ্ডায় আমি একেবারে জমে যাচ্ছিলাম, খিদেও পেয়েছিল প্রচণ্ড, উঁচুনিচু রাস্তা দিয়ে আসার দরুন শ্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম আর আপাদমস্তক ভিজে একেবারে জবজবে হয়ে গিয়েছিল। সারাটা পথ আকাশ আমার ওপর অবিরল চোখের জল ফেলেছে, যেন আমার দুর্ভাগ্যের জন্য বিলাপ করেই।
ডাক্তারের সহকারী যেখানে থাকতো আর যেখানে ডিসপেনসারী আর সার্জারি (ডাক্তারের রোগী দেখার ঘর) ও ছিল সেখানে গিয়ে উপস্থিত হলাম। বেশ বড় একটা বাড়ি মাঝখানে যাতায়াতের একটা সরু পথ বা ‘লবি’ দিয়ে দু’ভাগে ভাগ করা, একটা গাড়ি বারান্দাও ছিল সেখানে ‘জেমস্তভো সার্জারি’ লেখা আবছা হয়ে আসা একটা বোর্ড ঝুলছিল। প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য জায়গাটা জনশূন্য, আমাকে অভ্যর্থনা করতে বারান্দায় কেউ বেরিয়েও এলো না, কিন্তু দরজাটা সম্পূর্ণভাবে খোলা ছিল বলে, বিনা বাধায় আমি লবির মধ্যে ঢুকে গেলাম, সেখানে নাক-খ্যাদা একটা শুয়োর খাবারের একটা পাত্রের মধ্যে ক্ষুব্ধভাবে ঘোঁৎ ঘোঁৎ করছিল। ডাইনে আর বাঁয়ে কয়েকটা দরজা, কিন্তু তার কোনটা দিয়ে যে ঢুকবো তা বুঝতে না পেরে খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা রূপকথার বীরের মতো আমি লবির মাঝখানে দাঁড়িয়ে উঁচু গলায় ডাক দিলাম: ‘কে আছো?’
আমার ডাক শুনে বাঁ দিকের দরজা সশব্দে খুলে গেলো আর লাফ দিয়ে বেরিয়ে এলো নগ্নপদ, তের চোদ্দ বছরের একটি মেয়ে, পরনে তার মস্ত মস্ত লম্বা হাতাওয়ালা ছেঁড়া একটা কোট, মাথায় ময়লা কাপড়ের একটা টুকরো বাঁধা আর কোলে একটি ছোট্ট শিশু।
“আমি হলাম নতুন ডাক্তার”, আমি জানালাম। “সহকারী কই? আর চৌকিদার? তুমি কাউকে একটু এখানে ডাকো তো।”
মেয়েটি তার কর্ণ ফ্লাওয়ারের
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments