চীনাবাদাম ছাড়ানো
“লুকোও! লুকোও !”
বাচ্চা বাচ্চা ছেলেরা এ কে রাইফেলগুলো নিয়ে রাস্তা আর উঠোনগুলোর মধ্যে দিয়ে ছোটাছুটি করছিল। মাটিতে ধরাশায়ী হবার আগে বেড়াগুলোর ভেতর দিয়ে তারা গুলি করছিল সেই সঙ্গে চীৎকার করছিল তারপর আবার উঠে পড়ে পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছিল। যতটা সম্ভব বিকটাকার করার জন্য তারা মুখ বিকৃতি করছিল, চাইছিল নিজেদের যেন আর বেশি নির্মম আর নিষ্ঠুর দেখায়। গুলির শব্দ নকল করছিল তারা। তাদের মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়া লম্বা লম্বা ঘাসের আর কাল্পনিক প্রতিরক্ষার পাথরগুলোর পিছনে লুকোতে দেখে বাচ্চা বাচ্চা মেয়েগুলো মজা পেয়ে হাসছিল।
“জোচ্চুরি করছো তুমি। আমি বলেছিলাম ‘লুকোও!’ কিন্তু তুমি তো ছুটেই চলেছিলে। এ খেলাটা তুমি তো মোটেই খেলতে জানো না। আমি ‘লুকোও!’ বললেই তুমি শুয়ে পড়বে আর লুকোবে। তার মানে হলো আমি শত্রুপক্ষকে গুলি করতে চলেছি কিংবা শত্রুপক্ষ গুলি করতে চলেছে।
“আবার শুরু করা উচিত আমাদের। খেলাটা আরও জমজমাট করার জন্য আরো লোকের দরকার। আমাদের সঙ্গে যোগ দেবার জন্য মেয়েদের ডাকা যাক, তাহলে দু’টো দল হবে আমাদের।
“যুদ্ধ যে কি করে করতে হয় মেয়েরা তাতো জানেই না, আর ওদের ধাক্কা দিয়ে যদি ঠেলে সরিয়ে দাও তাহলে এরা কাঁদতে শুরু করে। মেয়েদের আমাদের দলে ডাকা উচিত বলে আমার তো মনে হয় না ।
“ধাক্কা দিয়ে ঠেলে সরিয়ে দিলে সব মেয়ে কিন্তু কাঁদে না। রেবেকা কাঁদে না। ওকে ডাকা যাক, তাহলে আমরা চারজন হবো।”
“আমার মা আমাকে বলেছে কিছু কিছু মেয়েরাও যুদ্ধ করতে গেছে, তারাও বড় বড় বন্দুক নিয়ে ছেলেদের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করছে। সৈন্যরা যাদের মেরে ফেলেছে, সেইসব মেয়েদের ছবি আমি আফ্রিকান টাইমস কাগজে দেখেছি। আমার আঙ্কল আমাদের সেইসব দেখিয়েছে। তার মানে হলো আমাদের উচিত আমাদের সঙ্গে যোগ দেবার জন্য মেয়েদের ডাকা।”
“তাহলে ঠিক আছে কিন্তু আগে ঠিক করা যাক খেলাটা আমরা কিভাবে খেলবো । তোমরা দুজনে হবে সৈনিক আর রেবেকাকে নিয়ে আমি হবো বিদ্রোহী। তোমরা প্রথমে আমাদের বলবে তোমরা কি চাও, আমরা তখন সেটা দিতে অস্বীকার করবো, তখন তোমরা চলে যাবে আর আমরা লড়াই শুরু করবো। আমরা যখন গুলি করবো তখন যদি তুমি ‘লুকোও’ না বলো তাহলে তুমি বন্দী হবে। আমরা কলাপাতা দিযে হেলমেট বানাবো আর মুখে রঙ মাখবো। তোমাদের দাবি কি?”
“আমরা আরও টাকা চাই। আমরা জানতে চাই তোমাদের মেশিনে তোমরা কেন আরও টাকা বানাতে পারো না যাতে করে সবাই টাকা পায়?”
ছায়ায় বসে মা দেখছিল, শুনছিল ছেলেদের কথা কাটাকাটি আর সিদ্ধান্ত তার গালগুলো অল্প অল্প কাঁপছিল, যদিও তার চোখ দুটো ছিল শুকনো। তার ছড়ানো পায়ের মধ্যে সে বোনার কাঁটাগুলো শক্ত করে চেপে ধরেছিল। মাদুরের একপাশে ছিল খোসাওয়ালা চিনাবাদামের একটা ঝুড়ি। এলাকা দখলের লড়াইয়ে তার মেয়ে রেবেকাকে ছেলেদের সঙ্গে যোগ দিতে দেখে সে বিচলিত হয়ে উঠেছিল। এই মুহূর্তে মেয়ে আর বাপ একই কাজ করছে এও কি সম্ভব? একে অপরকে দেখেনি কখনো ওরা। বাপ আব মেয়ে।
“লুকোও! লুকোও!” তার মেয়ে চীৎকার করছিল। মা মনে পড়ার যন্ত্রণা ভোগ করছিল। মা তার বোনার কাঁটাগুলো সরিয়ে রেখে দিয়েছিল, চীনাবাদামের ঝুড়িটা ভুলে নিয়ে পা মুড়ে বসেছিল। ছায়াটা একটু সরে গিয়েছিল, উঠে সে তার মাদুবটা সরিয়ে নিয়ে গিয়ে গাছের অপর পাশে পেতেছিল।
“তোমবা মরে গেছো! তোমরা মরে গেছো!” বাচ্চাগুলোর কণ্ঠস্বর বাতাস বিদীর্ণ করে দিয়েছিল। তারা তাদের পিছনে ধুলোর ছোট ছোট মেঘ উড়িয়ে বেড়ার মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, ছায়ার নিচে থেকে তাদের নগ্ন পা গুলো বেরিয়েছিল।
মা ভাবছিল তার মনে পড়ে যাওয়া মুখটার কথা, চওড়া চওড়া কাঁধ,
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
৳৯৯
এক মাস
৳৩০
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
ইভোন ভেরা
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
[কুইজে অংশ নিয়ে জিতে নিন এক মাসের ফ্রি সাবক্রিপশন]
-
মুক্তিযুদ্ধকে উপজীব্য করে 'যাত্রা' উপন্যাসটি লিখেছেন—
-
ক. শওকত ওসমানখ. শহিদুল জহিরগ. শওকত আলীঘ. সেলিনা হোসেনLogin
Please login first to Answer.
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments