নতুন যুগ, নতুন প্রথা
লেখক:কু ইউ
ছেলেমেয়ের পরস্পরের প্রতি পরস্পরের মনের ভাব লক্ষ্য করে ওয়াং-এর মা আর মেয়ের বাপ তাদের বিয়ের ব্যাপারে কোনো আপত্তি তুললো না। ওয়াং বেশ বলিষ্ঠ চমৎকার ছেলে, জেলা শাসন বিভাগে কাজ করবার জন্য তৈরি হচ্ছে। ফান ফেং-ল্যানকে সবাই জানে শক্ত সমর্থ, দক্ষ খেত কর্মী বলে। কৃষকরা সকলে তাদের দুজনকে বেশ পছন্দই করে। তাদের ধারণা দুজনে মিলেছে ভালো।
পৃথক পৃথক দুই গ্রামে দুজনের বাস, তবে এক গ্রাম থেকে অন্যটাতে যেতে হলে ছোট্ট একটা নদী পার হতে হয় মাত্র। বাগদত্ত অবস্থায় ফেং-ল্যানকে দেখতে আসার জন্য ওয়াং সবসময় কোনো না কোনো ছুতো একটা খুঁজে বার করতোই। তাই অচিরেই ওর ঘন ঘন আসা নিয়ে দু’গ্রামের বুড়োরা কথা বলাবলি শুরু করে দিলো।
“বাগদত্ত অবস্থায় এমনিভাবে সবসময় দুজনে একসঙ্গে হওয়া”, তারা বলাবলি করতে লাগলো, “বড্ড বেশি রকমের ‘আধুনিক’ হয়ে যাচ্ছে।”
বিয়ের ক’দিন আগের থেকেই ফেং-ল্যান-এর বাপ হিসেব করতে বসতো, মেয়ের বিয়ের যৌতুকের টাকার ব্যবস্থা করতে কত ফসল তাকে বিক্রি করতে হবে। একদিন খুব ভোরে ফসল ভর্তি ক’টা থলি নিয়ে তার তিন চাকাওয়ালা ঠেলাটার মধ্যে তুলে, সেগুলো বেশ ভালো করে বাঁধলো সে। ঠিক করলো, জল খাবার খেয়ে ফসলগুলো বাজারে বিক্রি করে সেই টাকায় ফেং-ল্যান-এর জন্য কিছু জিনিসপত্র কিনবে। যাবার জন্য যখন তৈরি তখন মেয়ে এসে তাকে আটকালো।
“বাবা”, সে বললো, “কি করছ তুমি? এবছর এই সামান্য কটা ফসল বাঁচাতে কি কষ্টই না আমাদের করতে হয়েছে। গ্রামে সভা করে সকলে মিলে কি ঠিক করা হয়নি যে গম কাটার আগে পর্যন্ত প্রত্যেকে পাঁচ ‘তু’ করে ফসল হাতে রাখবে?”
ঠেলাটাকে নামিয়ে রেখে তার বাপ পাইপে তামাক ভরতে লাগলো।
“যবে তোমার খাটবার ক্ষমতা হয়েছে তবে থেকে তুমি আমাদের জন্য হাড়ভাঙা পরিশ্রম করছো। তোমার প্রতি আমি অন্যায় করতে চাই না, ফেং-ল্যান।” নিঃশব্দে খানিকক্ষণ পাইপ টানতে লাগলো সে, তারপর আবার বলে চললো। “ভাবছিলাম তোমাকে চার প্রস্থ পোশাক দেবো—দু’প্রস্থ ভালো সুতি কাপড়ের, দু’প্রস্থ ছিটের কাপড়ের; দু’একটা দরকারি আসবাবপত্র, একটা কেটলি, কয়েকটা বাটি, একটা আয়না, মুখে মাখবার পাউডার খানিকটা, এমনি টুকিটাকি কয়েকটা জিনিসপত্র। তুমি কি বলো? ঐ ধরনের জিনিসপত্র কি তুমি চাও না?”
ফেং-ল্যান হাসতে হাসতে ঠেলা থেকে থলেগুলো নামাতে লাগলো, এদিকে তার বাপ তার দিকে তাকিয়ে রইলো, অবাক হয়ে।
“ওয়াং কি বলেছিল তা কি তোমার মনে নেই, বাবা? সে জিজ্ঞাসা করলো। ও আমাদের একটা পয়সাও খরচ না করতে বলেছিল। আমি কি ওর বাড়ির লোকেদের সঙ্গে গিয়ে থাকবো না? মুক্তাঞ্চলগুলোয় কি এমন কোনো পরিবার আছে যাদের নিজেদের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নেই? বাড়তি চেয়ার টেবিলে আমাদের প্রয়োজন কি? লাঙল দিতে বা ফসল বুনতে সেগুলো আমাদের কোনো সাহায্য করবে না। আর ছিটের কাপড়ের পোশাকের কথা বলছো সেগুলো পরবার সুযোগ পাবো কোথায়? এখন তো আর আগের মতো নেই যে বিয়ের পর তিনটি বছর পার না হলে নতুন বউ খেতে কাজ করতে পারবে না? ওয়াং-এর পরিবারের লোক হয়ে গেলে তাদের খেতের কাজে আমাদের সাহায্য করতে হবে। মুখে পাউডার দেবার সময় পাবো না! ওয়াং একজন ক্যাডার, একজন সরকারী কর্মী সে। এসব কখনই সমর্থন করবে না সে, আর তাছাড়া ওসব আমিও চাই না!”
বাপ চিন্তিতভাবে ভুরু কুঁচকে, মাথা হেঁট করে উঠোনের সিঁড়ির একটা ধাপের ওপর বসে পড়লো, আর ফেং-ল্যান গিয়ে ফসল ভর্তি থলিগুলো গোলা ঘরে তুলে রাখলো। সে ফিরে এলে তার বাপ বললো, “ফসল যদি আমরা বিক্রি না-ই করি তবে এসো বাচ্চা বলদটাকে বিক্রি করে দিই। লাঙল টানার জন্য দুটো বলদ
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments