ৎসাবুনিয়া
যখন বৃষ্টি পড়ে (ইমেরেতিতে মার্চ-এপ্রিল মাসে বরাবরই বৃষ্টি হয়) আর রিয়োনির ঝোপগুলো থেকে বাতাস পীচ আর বুনো প্লাম ফুলের গন্ধ আনে, ছোট্ট ৎসাবুনিয়া তার মাকে জিজ্ঞাসা করে, “মা, তোমার চাদরটা কি আমি গায়ে দিতে পারি?”
“হ্যাঁ, বাছা।”
ৎসাবুনিয়া পুরোনো বাক্স থেকে ওটাকে টেনে বার করলো, পাখির পালকের মতো চাদরটা বাতাসে সাদা পায়রার মতো উড়তে লাগলো।
ৎসাবুনিয়া চাদর দিয়ে নিজেকে এমন আঁট সাঁট ভাবে জড়িয়ে নিলো যে শুধু তার মেছেতার দাগ ওয়ালা ছোট্ট নাকটি আর তার আগুনে সেঁকা লাল লাল পাগুলো দেখা যেতে লাগলো। বাচ্চা মেয়েটির জন্য তার বাপের গলোশগুলো (বৃষ্টি বাদল থেকে বাঁচাবার জন্য জুতোর ওপর পরবার একরকম জুতো) পাপোষের ওপর প্রস্তুত হয়ে ছিল।
“যাচ্ছে আবুলাদজেদের মেয়েটা”, প্রতিবেশীরা বলাবলি করতো গ্রামের ভিজে রাস্তার ওপর দিয়ে বড় মাপের গলোশ গুলোর চটাশ-চটাশ শব্দ যখন তাদের কানে আসতো।
সকলেই জানতো এত সকালে ছোট্ট ৎসাবুনিয়া তড়বড়িয়ে কোথায় চলেছে। সে চলেছে বাতুমি ট্রেনের হাসপাতাল গাড়ি দেখতে।
যদি দিনটা একটু পরিষ্কার হয়ে যেতো, তাহলে ৎসাবুনিয়া তার হলুদ রঙের জুতো আর গলোশগুলো খুলে খালি পায়ে রাস্তা দিয়ে লাফাতে লাফাতে চলতো। সে অবশ্য জলে ভরা খানা-খোন্দলগুলো বাঁচিয়ে চলতো না। দৌড়তে দৌড়তে গিয়ে সেগুলো সে লাফ দিয়ে পার হতো। মাঝে মাঝে কিন্তু তার আন্দাজ ঠিক হত না আর গিয়ে পড়তো গর্তের মাঝখানে। লজ্জায় তখন সে একেবারে লাল হয়ে যেতো আর তাড়াতাড়ি কান্না গিলে ফেলতো। কিছুই যেন হয়নি এমনি ভাবে নিঃশব্দে চলতো।
ওষুধের দোকানের কাছে, যেখানে বড় রাস্তা শুরু হয়েছে। সেখানে গিয়ে ৎসাবুনিয়া তার জুতো পায়ে দিতো। গ্রামের মেয়েরা ফুটপাতের ওপর বসে পড়ে কিংবা দোকানের দেওয়ালের গায়ে ভর দিয়ে তাদের জুতো বদলাতো। ৎসাবুনিয়া কিন্তু তা করতো না, এক পায়ে ভর করে সে জুতো পরে নিতো। তারপর তড়বড় করে সে স্টেশনে চলে যেতো।
সে বছর ৎসাবুনিয়া এগারোয় পড়েছে। বোনার কাঁটার মতো সিড়িঙ্গে, হাতগুলো লম্বা লম্বা সরু সরু কনুইগুলো খোঁচা খোঁচা।
তার নাক আর গালগুলো সোনালি রঙের মেছেতায় ভরা, তার মুখের ওপর কে যেন এক চালনীভরা ভুসি ছুঁড়ে দিয়েছে।
কালে ৎবাসুনিয়া হয় তো বেশ সুশ্রী, সৌষ্ঠবময়ী নারীতে পরিণত হবে…। কিন্তু আমি যখন তাকে প্রথম দেখি তখন সে ছিল তার বয়সী যে কোনো মেয়ের মতোই কুৎসিত আর শীর্ণ।
সাসত্রেদিয়া স্টেশনের সকলেই ওকে চিনতো, লালটুপি মাথায় সহকারী স্টেশান মাস্টার তার অফিসে ঢোকা মাত্রই ছোট্ট মেয়েটিকে হাসপাতাল গাড়িতে ঢোকার ইঙ্গিত করা হলো।
বদ্ধ, গুমোট কামরার মধ্যে উঁকি দিয়ে ৎসাবুনিয়া জিজ্ঞাসা করলো,
“খুড়ো, তুমি কি কাচের লোক?”
ওষুধ পত্র, ক্ষত আর তামাকের গন্ধে বাচ্চা মেয়েটির প্রায় বমি আসছিল কিন্তু সে এটাও বুঝতে পেরেছিল যে কিছুক্ষণ বাদে ওসব গ্রাহ্যও করবে না।
শানটিং এঞ্জিন হাসপাতাল গাড়িটাকে সাইডিং পৌঁছে দেবার আগেই ৎসাবুনিয়ার সব কামরাগুলোয় গিয়ে খোঁজ করা আর প্রতিটি সৈনিকের সঙ্গে কথা বলা হয়ে গেছে।
“পাঁচ মাস হলো আমার বাবার কাছ থেকে কোনো চিঠি পত্র পাইনি। আমাদের পদবী হলো আবুলাদজে। তোমরা কি তাকে দেখেছো কোথাও?”
“তোমার বাবার নাম কী?”
“ভালিকো।”
“ভালিকো আবুলাদজে। না গো, বাছা, তাকে আমি দেখিনি।”
“ধন্যবাদ।”
ইতিমধ্যে আর্দালীরা চলাচলের পথটা বাক্স-পত্র, স্ট্রেচার আর ক্রাচ দিয়ে প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে, কিন্তু ছায়া যেমন কাউকে বিরক্ত করে না একটা ঐ ছোট্ট মেয়েটিও তেমনি ভাবে এক কামরা থেকে আর এক কামরায় নিঃশব্দে ঘুরে বেড়াতে লাগলো। প্রতিটি কামরায় তার পরিষ্কার কণ্ঠস্বর শোনা যেতে লাগলো,
“তুমি কি কার্চ থেকে আসছো খুড়ো?”
II ২ II
ভালিকো আবুলাদজে একজন নতুন বাসিন্দা। সে থাকতো
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments