একটি মায়ের অন্বেষা
আরচিল ঘুমোতে পারলো না...। সে হয় অন্ধকারাচ্ছন্ন ছাদের দিকে ক্লান্তভাবে তাকিয়ে চিৎ হয়ে শুচ্ছিলো, নয় তো উপুড় হয়ে শুয়ে বালিশের মধ্যে তার উত্তপ্ত মুখখানা গুঁজছিলো। চোখ বুজলেই চোখের সামনে ভাসছিলো কেতিনোর পাণ্ডুর মুখখানা। তুষার-ধবল বালিশের গায়ে তার কুচকুচে কালো চুল যেন আরও কালো লাগছিল। তার কালো কালো চোখ দুটো আঁখিপল্লবে ঢাকা, তার ঠোঁট দুটি কাঁপছিল, যেন সে ফিস ফিস করে কিছু বলছে।
আরচিল উঠে বসলো, চোখ খুলে যে ভয়ঙ্কর স্বপ্নগুলো তার চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে তাদের মন থেকে তাড়াবার ব্যর্থ চেষ্টা করতে লাগলো।
উদ্বিগ্ন এক মা তার অসুস্থ কন্যার শয্যার উপর ঝুঁকে পড়েছে। নিদ্রাহীন রাতগুলোর পর ক্লান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই ঘুমিয়ে পড়েছে; আর সভয়ে চমকে জেগে উঠে, নিজেকে জাগিয়ে রাখার জন্য ঠোঁট কামড়াচ্ছে, হাতের তেলোয় চিমটি কাটছে।
“বাবা শীগগির ছুটি পাবে আর তখন এসে আমাদের কাছে সর্বক্ষণ থাকবে, সোনা।”
“না, মা।” কেতিনো খুব কষ্ট করে ফিসফিসিয়ে বললো, “বাবার আসতে এখনো অনেক দেরি।”
আরচিল ভোর হবার সঙ্গে সঙ্গে উঠে পড়লো। তাড়াতাড়ি জামাকাপড় পরে তিবলিসি থেকে আসা তারটা আবার পড়লো, “তোমার জন্য কেতিনোর খুব মন কেমন করছে। শীঘ্র চলে এসো।”
মাঝরাতে তারটা যখন পড়েছিল তখন শেষের দুটো কথার গুরুত্বের ওপর বিশেষ মনোযোগ দেয়নি। কেতিনোর বিছানার পাশে আরও বেশিক্ষণ কেন সে থাকেনি সেই কথা ভেবে তার অনুতাপ হচ্ছিলো। এখন হঠাৎ একটা আশঙ্কা তাকে পেয়ে বসলো। নিশ্চয়ই কিছু হয়েছে তা না হলে সে চলে আসার পরের দিনই একটা জরুরী তারবার্তা ওরা তাকে পাঠাতো না। “শীঘ্র চলে এসো” এর অর্থ কি হতে পারে?
‘আজ সন্ধ্যায়ই যাতে চলে যেতে পারি তার ব্যবস্থা আমায় করতেই হবে’, সে ঠিক করলো, তারপর ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়লো।
পার্টির জেলা কমিটির অফিসে তখনও কেউ আসেনি। নিজের ডেস্কে বসতে না বসতে তার ঘুম এসে গেলো।
‘দুর ছাই’, মনে মনে সে ভাবছিল। ‘কাল রাত্রে এক ফোঁটা ঘুমোতে পারলাম না কিন্তু এখন আর চোখ খুলে রাখতে পারছি না।’
সারাদিনে এমন একটু সময় পেলো না যে বিশ্রাম নেয়। আশঙ্কা ও উদ্বেগে তার মন আচ্ছন্ন হয়ে রইলো।
শেষকালে তার ড্রাইভারকে ডেকে বললো তারা তিবলিসি যাবে।
অফিস ছেড়ে প্রায় চলে আসার মুখে আধভেজানো দরজার মধ্যে দিয়ে শুনতে পেলো কলহপূর্ণ এক নারী কণ্ঠ। জেলা কমিটির সম্পাদকের সঙ্গে সাক্ষাৎ দাবি করছে।
“উনি ব্যস্ত আছেন, তোমাকে এখন ভেতরে যেতে দিতে পারবো না। উনি এখনি তিবলিসি যাবেন”, কর্তব্যরত মেয়েটি তাকে বললো। কিন্তু মহিলাটি ভিতরে আসার জন্য পীড়াপীড়ি করতে লাগলো।
মেয়েটি ঘরের মধ্যে ঢুকলো। পিছনে দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে।
“কমরেড আরচিল, এক বুড়ি এসেছে। ও রোজ আসছে। বলছে সে জোর করে ঢুকবে।”
আরচিল-এর আর উত্তর দেবার অবকাশ মিলল না, এরই মধ্যে শাল মুড়ি দেওয়া বেঁটেখাটো এক বৃদ্ধা দরজাটা ঠেলে খুলে ফেলে, মেয়েটির দিকে ভ্রুকুটি করে তাকিয়ে, ক্ষিপ্রভাবে আরচিল-এর দিকে এগিয়ে এলো। তার বাঁ হাতের ওপর থেকে ঝুলছিলো নানা রঙে চিত্রবিচিত্র করা ছোট স্যাডল ব্যাগ (জিনের পাশে বাঁধা থলি) আর তার ডান হাতে ধরা ছিল সরু সরু চামড়ার ফালি দিয়ে বোনা একটা চাবুক। পড়ন্ত সূর্যের আলোয় আলোকিত ঘরে আরচিল লক্ষ্য করলো তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টির সমালোচনা আর তার বিদ্রুপ মাথা তাচ্ছিল্যে ভরা মুখের ভাব।
‘এ তো দেখি এক বাঘিনী’, অনিচ্ছাকৃতভাবে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে সে মনে মনে ভাবছিলো
“ওঃ!” বৃদ্ধা চিৎকার করে উঠলো, ঘরের মাঝখানে থমকে থেমে গিয়ে।
তার এ চিৎকারের অর্থ এতটুকুও পরিষ্কার হলো না সে যখন আবার সশব্দে হেসে উঠলো, নিজের হাতের স্যাডল
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments