হায়রে কপাল
সারার পা দুখানা অচল হয়ে পড়ার আগে সে আমাদের কাছেই কাজ করতো। খুবই মোটা ছিল সে আর তার গায়ের রঙ ছিল হালকা হলদেটে-বাদামী, যেন একটা বেলুনের মতো, বেলুন ফোলালে যেমন রঙটা তার হালকা হয়ে যায়, পিগমেন্টের (প্রাণী ও উদ্ভিদের তত্ত্বরঞ্জক পদার্থ বিশেষ) পাতলা স্তরের নিচের মেদ বৃদ্ধি হলে সেটা টানটান হয়ে আরও বেশি পাতলাভাবে ছড়িয়ে যায়। গিল্টি করা ছোট্ট সরু ফ্রেমের চশমা পরতো সে আর ভালো রাঁধুনী ছিল, মাখনের ব্যাপারে শুধু যা তার হাতটা ছিল দরাজ।
তার সম্বন্ধে এই সব জিনিসগুলোই আমরা লক্ষ্য করেছিলাম।
কিন্তু এর ওপর তার ছিল একটি মাত্র স্বামী, আইনসম্মতভাবে তার সঙ্গে গীর্জায় বিবাহিত, আর ছিল তিনটি ছেলে-মেয়ে, রবার্ট, জ্যানেট আর ফেলিসিয়া, যাদের শিক্ষিত করে তোলাই ছিল তার সর্বক্ষণের চিন্তা। হেঁট হয়ে ঘরদোর পরিষ্কার করার সময় সে প্রায়ই লম্বা নিঃশ্বাস ফেলতো, ভারী মানুষ যেমন করে থাকে, তখন কিন্তু সে তার ছেলেমেয়েদের কথাই চিন্তা করতো। যখন মাংসওয়লা মাংসের সঙ্গে মেটে পাঠাতো না কিংবা সাপ্তাহিক কাচাকাচির মাঝখানে বৃষ্টি শুরু হয়ে যেত তখন সে বলতো হায়রে কপাল, যেন তার নিজের জীবনের ঝঞ্ঝাটগুলো দিয়ে বিচার করলে, সে আশাই করতে পারে না যে তার দৈনন্দিন কাজগুলো এর থেকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। প্রথম প্রথম এই খেদোক্তির বাইবেল সুলভ ভনিতায় আমরা হাসাহাসি করতাম, আপাতদৃষ্টিতে ওটা এত মাত্রাতিরিক্ত মনে হতো, কিন্তু পরে আমরা বুঝতে পেরেছিলাম। হায়রে কপাল বলতো সে; আর সেটা ছিল জীবন সম্বন্ধে তার মন্তব্য।
তার তিন ছেলে-মেয়ের জন্য সে চিন্তা করতো, সে চাইতো তারা যেন তাদের যথাযথ স্থান চিনে নিতে পারে; তাদের সে শিক্ষিত করে তুলতে চাইতো, সে চাইতো ছেলের যেন উপযুক্ত একটা চাকরি হয়, সে চাইতো মেয়েরা যেন নিষ্কলুষভাবে বড় হয়ে উঠে গির্জায় গিয়ে বিয়ে করে। এই ছিল সব। সবস্থানই যে তার ছেলেমেয়েদের যথাযথ স্থান এই কথাটি চিন্তা করার পক্ষে, ইহলোকের থেকে পরলোকের ওপর চতুর ঝোঁক দেওয়া তার মিশন স্কুলের শিক্ষা, তাকে যথেষ্ট বিপদজ্জনক, বা যথেষ্ট সাহসী বা যথেষ্টমুক্ত বা নিদেন পক্ষে এমনকি যথেষ্ট শিক্ষিত পর্যন্ত করেনি, কিন্তু সে শিক্ষা অন্তত তাকে এতটা টেনে তুলেছিল, যাতে করে তার মনে এটুকু বিশ্বাস জাগাতে পেরেছিল যে তাদের যথাযথ স্থান আছে, সাদা চামড়াদের স্থানের একটা অংশ নয় কিন্তু তাই বলে কোনোস্থানই নেই, তাও না; তাদের নিজস্ব একটা স্থান। সে চাইতো সেটা যেন তারা পায় আর সে চাইতো তারা যেন সেই স্থানেই থাকে। এটা যে সহজ নয় সেটা বোঝার মতো নির্বিবাদী বাস্তববাদী ছিল না। কেন যে ওটা অত কঠিন সেটা প্রশ্ন করার পক্ষে সে আবার ছিল যথেষ্ট প্রাচীনপন্থী। সে বলতো এই জগত যেমন তোমাকে তেমনভাবেই এখানে বাস করতে হবে।
তার ছেলে-মেয়েদের জন্য যে সব জিনিস সে চাইতো সেগুলো শুনতে খুবই সাধারণ লাগতো; সেগুলো কিন্তু সাধারণ ছিল না অন্তত সেগুলো যেখানে সন্ধান করতে হতো সেখানে ছিল না।
প্রথমে লোকেশানে (Location) তার এক আত্মীয়ের বাড়ি সে তার ছেলে-মেয়েদের জন্য একটা ঘর ভাড়া করেছিল। সে তাদের খাবার দিতো আর প্রতি রবিবার তাদের দেখতে যেতো, তারা যেন নিয়মিত স্কুলে যায় আর অন্ধকার হবার পর সারাটা সপ্তাহ যেন লোকেশানের মধ্যে ঘুরে না বেড়ায় এটার ওপর আত্মীয়টির নজর রাখার কথা ছিল; সারা যেমন প্রচণ্ডভাবে শিক্ষায় বিশ্বাস-করতো তেমনি প্রচণ্ডভাবে ভয় করতো অন্ধকারের আবিলতাকে। কিন্তু অচিরেই দেখা গেলো রবার্ট তার স্কুলের দিনগুলোর বেশির ভাগই গলফের মাঠে ক্যাডির (গলফের বল-বাহক) কাজে কাটাচ্ছে (কেন, কেন, কেন!—এর লজ্জায় সারা আর্তনাদ করে উঠেছিল আর রবার্ট তার ছোট্ট হাতের
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments