অনুপাতের উৎপাত

এ—ও গজখুড়োর মুখে শোনা।

বটুকদাদুর পৈতৃক বাড়ির মতো আরেকটা বাড়ি শুধু ভূ-ভারতে কেন, দুনিয়াতে কোথাও আছে কিনা সন্দেহ। ওপরের রাস্তায় সদর ফটক, সেখান থেকে মনে হয় একতলা বাড়ি। আবার ঐ রাস্তাটাই একটা পাক খেয়ে যখন বাড়ির পেছন দিয়ে নিচে হিঞ্চে বাজারের দিকে নামতে থাকে, সেখান থেকে দেখলে বোঝা যায় আসলে তিনতলা বাড়ি। নিচের দুটো তলা পাহাড়ের গায়ে ঠেস দিয়ে হিমালয়মুখো দাঁড়িয়ে আছে।

এর আগে ন্যাকা-বোকা যায়নি কখনো ওখানে। তবে বটুকদাকে আলু— কাবলি কিম্বা চানাচূর খাওয়ালে, ঐ বাড়ির সম্বন্ধে যে—সব রোমাঞ্চকর গল্প বলত, তাই শুনে ওরা তাজ্জব বনে যেত। সব গল্পের কেন্দ্রে একজন রহস্যময লোকই থাকতেন। তিনি ওদের ছোটদাদু—যিনি প্রায় ২০ বছর নিঁখোজ

বটুকদা বলেছিল যে, এতকাল যাঁর টিকির দেখা কেউ পায়নি, তাঁকে জলজ্যান্ত ধরে দেওয়া ন্যাকা-বোকা ছাড়া আর কারো কম্ম নয়। যারা স্রেফ দড়ির ফাঁস পরিয়ে টপাটপ দুটো ধেড়ে বাঁদর ধরে ফেলতে পারে, তাদের কাছে এ তো ছেলেখেলা। বটুকদার বড় নানি নাকি পইপই করে তাকে বলে দিয়েছেন, এ বছর পূজোর ছুটিতে ওদের দুজনকে যেন অতি অবশ্য বটুক নিয়ে যায়। নইলে বটুকেরো গিয়ে কাজ নেই।

শুনে ন্যাকা-বোকা থ'! অধিকাংশ আত্মীয়-স্বজন ওদের আগমন ঠেকাবার চেষ্টাই করে। এ আবার কেমনধারা উল্টো কথা! তাছাড়া যিনি ২০ বছর নিখোঁজ তিনি কি আর আছেন ?

বটুকদা টেবিল চাপড়ে বলল, ‘আছেন বৈকি। নইলে বছরে ডাকযোগে বড় নানির নামে বেনামে ঐ বাড়ির ট্যাক্সের টাকা পাঠায় কে? আছেন ঠিকই। তবে হয়তো অন্তরীক্ষ থেকে ধরে আনতে হতে পারে। তোমার কাছে সে আর এমন কি? ও বাড়ির ছাদে রোলারক্সেটের ব্যবস্থা আছে তা জানিস? আর দোতলায় ঘোরানো দূরবীণ।

আর বলতে হলো না। ন্যাকা-বোকা এক কথাতেই রাজি। কে ওদের কবে বা কোথায় রোলার স্কেট করাচ্ছে? বাড়ির লোকেও তিন সপ্তাহ ওদের চেহারা দেখতে হবে না শুনে, সঙ্গে সঙ্গে অনুমতি এবং খরচাপাতি দিয়ে দিল। বটুকদারা তো আর ওদের পর নয়। বটুকদার বড় দাদুর মা আর ন্যাকা— বোকার ধামুর মা নাকি মাস্তুতো বোন ছিলেন। ধামু মহা খুশি হয়ে বললেন, “হ্যাঁ, যাবি নিশ্চয়। আমাদের সব কুশল জানিয়ে আসবি, আর সেই ফাঁকে আমার আচর গুলোকে আমি নিরাপদে ছাদে রোদ খাইয়ে শিশিতে ভরে ফেলবো, তোরা ফেরার আগেই।'

ছোটদাদুর কথা কাউকে বলতে বটুকদা মানা করেছিল। এমন কি ঐ পৈতৃক বাড়িতেই যারা বাস করেন, তাঁরাও কেউ নাকি ওঁর নাম মুখে আনেন না। বটুকদা সঠিক না জানলেও, উনি অনেক টাকাকড়ি নিয়ে উধাও হয়েছিলেন বলে সন্দেহ করে। ওঁর নামে নাকি ২০ বছর ধরে হুলিয়া চারিয়ে আছে।

এ—সব কথার বেশির ভাগ বটুকদার বড় নানির কাছে পরে শোনা এতদিন তিনি ভয়ে কাউকে কিছু বলেন নি, এ বছর বর্ষার আগে থানায় আগুন লেগে, কাগজপত্র সব ছাই হয়ে গেছে, অনেক কষ্টে লোকজনরা বেঁচেছে। ও.সি দুঃখ করে বলেছিলেন লোকগুলো গিয়ে কাগজপত্র থাকলে খুব একটা ক্ষতি হত না, বরং কতকগুলো বেকার লোক চাকরি পেত, আর দেশের অনেক মঙ্গল হতো ইত্যাদি। এতে গত ৬০ বছরের সব নথিপত্র প্রমাণাদি পুড়ে ছাই! যতসব দুষ্কৃতকারী প্রমাণাভাবে বেকসুর খালাস পাবে ! সেইদিনই বড় নানি বটুকদাকে চিঠি দিয়ে ছিলেন।

এসব কথার সূত্রপাত হয়েছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের গদীওলা সীটে বসে। ভোরে হাওড়া ছাড়া, বেলা সাড়ে তিনটেয় নিউ জলপাইগুড়ি; সেখান থেকে বাসে সন্ধ্যায় ঘুম; ঘুমে অবতরণ; তারপর উত্তর দিকে খানিকটা হাঁটা পথ। সেই পথটাই ঘুরে নিচে নেমেছে। দুপাক যেতেই ডান দিকে কাঠের ফটক। তাতে লেখা ‘আইরি’। বটুক বলল, তার মনে ঈগল পাখির বাসা। ঈগল পাখি খুব উঁচুতে বাসা

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice