১৮৯৮–১৯৭১
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামের এক জমিদার বংশে। ১৯১৬ সালে লাভপুরের যাদবলাল এইচ...
See more >>-
...তারপর অকস্মাৎ ইয়োরোপে ইটালির আবিসিনিয়া আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে আমি এক প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছিলাম। মনে হয়েছিল মানুষের জীবনে বর্বরতার আর মনুষ্যত্বের এক টাগ অব ওয়ার আরম্ভ হয়ে গেল এই বিংশ শতাব্দীতে। মানুষ যখন সর্ব বর্বরতাকে সমাহিত করে বৃহত্তর কল্যাণের দিকে চলেছে ঠিক সেই সময়েই মানুষের আত্মস্বার্থপন্থী পদ্ধতি সকল মুখোশ খুলে তাণ্ডব নৃত্য আরম্ভ করে দিয়েছে। জার্মানিতে ইহুদি নির্যাতন দেখে শিউরে উঠলাম। ফ্রয়েড, আইনস্টাইনের দুর্দশা ও অপমান, মেয়েদের অধিকার লোপ, স্পেনের গৃহযুদ্ধ, চীনের বিরুদ্ধে জাপানের অভিযান দেখলাম। মনে মনে বার বার প্রশ্ন করেছিলাম—মানুষ কি এই সহ্য করবে, এক-এক সময় প্রত্যাশা করতাম—ওই ওই দেশের মানুষেই এই বর্বরতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে মনুষ্যত্বের এই চরম
-
স্বর্ণ ডাইনিকে মনে পড়ছে।
শুকনো কাঠির মতো চেহারা। একটু কুঁজো, মাথায় কাঁচা-পাকা চুল, হাটে তরি-তরকারি কিনে গ্রামের ঘরে ঘরে বেচে বেড়াতো। চোখ দুটো ছিল নরুনে- চেরা চোখের মতো ছোট। দৃষ্টি তীক্ষ্ণই ছিল, কিন্তু ডাইনি শুনে মনে হতো সে চোখ যেন আমার ভেতরে ঢুকে আমার হৃপিণ্ডটা খুঁজে ফিরছে।
স্বর্ণ গ্রামে বড় কারোর ঘরে ঢুকতো না। আমার অনেক বয়স পর্যন্ত স্বর্ণ বেঁচে ছিল। আমরা স্বর্ণপিসি বলতাম। বেচারি গ্রামের ভদ্রপল্লী থেকে দূরে— জেলেপাড়ার মোড়ে একখানি ঘর বেঁধে বাস করতো। সে-পথে যেতে আসতে দেখেছি, বুড়ি ঘরের মধ্যে আধো অন্ধকার আধো-আলোর মধ্যে বসে আছে। চুপ করে বসে আছে। কথা বড় কারো সঙ্গে বলতো না। কেউ
Page 1 of 1
ক্যাটাগরি
উৎস
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.

