ভূত-পেত্নীর কথা
তোমাদের কাছে আমি কাল্পনিক ভূতের গল্প বলেছি অনেক। কিন্তু সত্যি সত্যি ভূতের অস্তিত্ব আছে কিনা, এ নিয়ে তর্কের অন্ত নেই।
এ-সব নিয়ে দরকার নেই আমাদের মাথা ঘামিয়ে। কারুকেই আমি ভূত বিশ্বাস করতে বলি না। অন্তত ভূত মানলেও ভূতকে ভয় করবার কোনও দরকার আছে বলে মনে হয় না।
কিন্তু ভূত মানি আর না মানি, মাঝে মাঝে এমন কতকগুলো আশ্চর্য ঘটনা ঘটতে দেখা যায়, যাদের কোনও মানে হয় না। সেগুলো ভূতের কীর্তি না হতে পারে, কিন্তু তাদের মূলে নিশ্চয়ই কোনও অপার্থিব শক্তি কাজ করে।
প্রায় বছর-কুড়ি আগে কলকাতায় জয় মিত্র স্ট্রীটের একটি বাড়িতে অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে আরম্ভ করে। কোথাও কিছু নেই, বন্ধ ঘরের মধ্যে হঠাৎ একরাশ ইট বা রাবিশ বৃষ্টি হল। চোখের সামনে ঘটি, বাটি ও থালা মাটি থেকে উঠে শূন্যে উড়তে লাগল পাখির মতো, তারপর ঝন্ ঝন্ করে আবার মাটির উপরে পড়ে ভেঙেচুরে গেল। থানায় খবর দেওয়া হল। পুলিশবাহিনী এসে বাড়ি ঘেরাও করে সতর্ক পাহারা দিতে লাগল, তবু ওই-সব উপদ্রব বন্ধ হল না। অথচ তার কিছুকাল পরে-পুলিশ যখন হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে সরে পড়েছে—তখন সমস্ত উৎপাত আপনা-আপনি আবার থেমে গেল! ওই উপদ্রবের কাহিনী সংবাদপত্রেও প্রচারিত হয়েছিল এবং দলে দলে লোক ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বচক্ষে সমস্ত দর্শন করেছিল।
আমাদের নিজেদের ভিতরে দুইবার দুটি বিচিত্র ঘটনা ঘটে।
অনেক দিন আগে আমরা রাওয়ালপিণ্ডিতে গিয়ে এক বৎসর বাস করেছিলুম।
পরিবারের মধ্যে বাবা, মা, আমি আর দুই বোন। পে-অফিস-লেন নামক রাস্তায় যে বাড়িখানা আমরা ভাড়া নিয়েছিলুম সেখানা এখনো বর্তমান আছে কিনা জানি না, কিন্তু তখন সে-বাড়িতে সহজে কেউ থাকতে চাইত না। আমরা ভাড়া নেবার পরেই পাড়ায় লোকের মুখে খবর পাওয়া গেল, এ বাড়িতে নাকি অনেক-রকম ভয় আছে। এর মধ্যে একজন পাঠান নিহত হয়েছে এবং আর একজন পাঠান করেছে আত্মহত্যা। তারপর থেকে এখানে আর কেউ বাস করতে পারে না। বাবা কিন্তু ও-সব কথা গ্রাহ্যের মধ্যে আনলেন না।
আমার বয়স তখন অল্প। সব কথা ভাল করে মনে হয় না, তবে কোনও কোনও ঘটনা এখনো ভুলিনি। এক রাত্রে মায়ের ডাকাডাকিতে আমাদের ঘুম ভেঙে গেল।
বাবা বিছানার উপরে উঠে বসে বললেন, ‘ব্যাপার কি?’
মা বললেন, ‘দেখবে এস।’
আমাদের শোবার ঘরের সামনেই ছিল একটা দালান, তারপর উঠান এবং উঠানের তিনদিকে কয়েকখানা ঘর। বাবা ও মা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন, আমিও গেলুম তাঁদের পিছনে পিছনে।
দালান থেকে বেরিয়েই অবাক হয়ে দেখলুম, উঠানের উপরে মাটি থেকে প্রায় চার হাত উঁচুতে জ্বলছে আশ্চর্য একটা আলো। দেখলেই বুঝতে বিলম্ব হয় না যে, প্রদীপ, বাতি, লণ্ঠন বা মশাল থেকে সে আলোর উৎপত্তি নয়। নীলাভ আলো, আকার ক্রিকেট বলের মতন। চাঁদের কিরণেধবধবেউঠানের উপরে আলোটা এদিক থেকে ওদিক পর্যন্ত নেচে বেড়াচ্ছে এবং মাঝে মাঝে এক একটা ঘরে দরজার কাছে গিয়ে যেন ঠোকর খেয়েই আবার আসছে।
মায়ের বাধা না মেনে বাবা উঠানের দিকে অগ্রসর হলেন—আলোটাও হঠাৎ নিবে গেল।
তারপর কয়েক রাত ধরে আর একরকম কাণ্ড! গভীর রাত্রে উঠানের ধারের ঘরগুলোর দরজায় দরজায় শিকল বেজে ওঠে ঝন্ ঝন্, ঝন্ ঝন্! বাবা বাইরে ছুটে যান, কিন্তু কারুকে দেখতে পান না। হয়তো বাইরের দুষ্টু লোক এসে ভয় দেখাচ্ছে এই ভেবে ভিতরে ঢুকবার দুই দরজায় তালা-চাবি লাগানো হল, কিন্তু তবু থামল না শিকল-সঙ্গীত।
মা তো ভয়ে সারা। বলেন, এ অলক্ষুণে বাড়ি ছেড়ে চল! বাবা কিন্তু অটল। বলেন, আলো দেখিয়ে আর শিকল বাজিয়ে কোন পাঠান-ভূত আমাকে ভয় দেখাতে পারবে না।
পাঠান-ভূতেরা শেষটা
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
৳৯৯
এক মাস
৳৩০
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments