- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
টিয়া পাখির বাচ্চা
টিয়া পাখির বাচ্চা মার কাছে সারাদিন গল্প শোনে। ওর মা কত-যে গল্প জানে! পুরনো একটা ভাঙ্গা বাড়ির ছোট্ট খুপড়িতে ওদের বাসা। সেই বাড়িতে মানুষজন কেউ নেই, ছাড়াবাড়িটা জংলা গাছে ছেয়ে গেছে। গোটা দুই শেয়াল নীচের ঘরে বাসা বেঁধেছে। এ ছাড়া এ বাড়িতে একদল চামচিকে আছে, সাপ-খোপ আছে, পোকামাকড় আছে, অনেক কিছ্ইু আছে। কিন্তু ওদের সঙ্গে টিয়া পাখির কোনোই সম্পর্ক নেই। টিয়া তার বাচ্চাটাকে নিয়ে দোতলায় ঘুলঘুলিটায় বাসা বেঁধে আছে।
মা মাঝে মাঝে বাইরে থেকে খাবার নিয়ে আসে। সেই আধো আলো আধো অন্ধকারে ওই ছোট্ট বাসাটুকুর মধ্যে বাচ্চা কিন্তু বেশ মনের আনন্দেই আছে। মাঝে মাঝে মা যখন ওকে ফেলে বাইরে চলে যায়, তখন বড়ই একা একা লাগে। কিন্তু সে কতক্ষণের জন্যই বা। মা ফিরে এলেই সে আবার আনন্দে কলকলিয়ে ওঠে।
এতদিন ছিল বেশ ভালোই। কিন্তু কিছুদিন যাবত মা’র মুখে নানারকম গল্প শুনে শুনে সে বিষম উসখুস করছে। মা’র মুখের গল্প শুনে এইটুকু সে বুঝতে পেরেছে যে, তাদের এই খুপড়ির বাসাটা থেকে আসল পৃথিবীটা অনেক বড়, দেখতেও খুব সুন্দর। কিন্তু সেই পৃথিবী কোথায়, কত দূরে? মা’র কাছে যে-সব গল্প সে শুনেছে, তা যেন ঠিক বিশ্বাস করতে পারছে না, কিন্তু বিশ্বাস না করেই বা করে কি? মা কি আর মিথ্যা কথা বলছে!
মা বলে, তাদের এই বাসাটা থেকে বাইরে বেরোলেই নাকি পৃথিবীর সঙ্গে দেখা হয়। সে কি একখানা পৃথিবী, তার আদিও নেই অন্তও নেই। আর কত রকমের চেহারা তার। এক এক জায়গায় এক রকম। পাহাড় আছে। বন আছে, শহর আছে, গ্রাম আছে, নদী আছে, সমুদ্দুর আছে, আরও কত কি-যে আছে, সে কথা কি কেউ বলতে পারে! আর সবার মাথার উপর নীল আকাশের একটা মস্ত বড় ঢাকনি। ও সব কথা শুনে বাচ্চার মন ছটফট করতে থাকে। কবে সে বড় হবে, কবে সে শিখবে, আর কবেই বা সে নিজের চোখে এসব দেখবে! মাঝে মাঝে সন্দেহ জাগে, সে কি সত্য সত্যই কোনো দিন মায়ের মতো এতো বড় হয়ে উঠতে পারবে? মায়ের মতো বড় হয়ে ওঠা, সে তো আর সহজ কথা নয়।
কিন্তু সত্য সত্যই সে এক সময় বড় হয়ে উঠল। মায়ের মতো অত বড় না হোক, যতই দিন যাচ্ছে, ততই সে বড় হয়ে উঠছে। এইভাবে যদি সে ক্রমে ক্রমে বেড়েই চলতে থাকে, তবে মাকে ছাড়িয়ে উঠতেই বা কতদিন? মা তখন তার কাছে বাচ্চার মতোই হয়ে যাবে।
কিন্তু এখনও তার অনেক দেরী আছে। আপাতত সে তার মার কাছে ওড়া শিখতে লাগল। প্রথম প্রথম ক’দিন কি যে নাকাল হতে হয়েছে! মা ধাক্কা মেরে ঠেলে দিয়েছে, যা যা, ঝাঁপিয়ে পড়। ওরে মারে মা, কেমন করে ঝাঁপিয়ে পড়বে? কত নীচে মাটি, পড়লো একদম হাড় ভেঙ্গে যাবে। ভয়ে ওর বুক দুুপ দুুপ করতে থাকে। ও নড়তে চায় না। কিন্তু নড়তে না চাইলে কি হবে, মা ওকে ঠেলে ফেলে দেয়। বলে, যা, ভীতু কোথাকার।
বাচ্চা পড়তে পড়তে আপনাকে বাঁচাবার জন্য পাখা মেলে দিল। একটু সময় সে বাতাসের উপর ভর করতে পারল, কিন্তু সে একটুর জন্যই। তার পরেই কি যে হয়ে গেল, সে আর কিছুতেই সামলাতে পারল না, ঝটপট করতে করতে মাটির উপর আছড়ে পড়ল। আর এমনি কপাল, ঠিক সেই জায়গাটাতেই একদল চড়ুই পাখি কি নিয়ে খুব কথা কাটাকাটি করছিল।
বাচ্চা আছাড় খেয়ে পড়তেই ওদের ঝগড়াঝাটি থেমে গেল। ওরা টিটকারী দিয়ে হেসে উঠল, ছ্যাঃ ছ্যাঃ টিয়া পাখির ছানাগুলো একদম বাঙ্গাল, কোনো কম্মের না।
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
সত্যেন সেন
বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামের এক বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী পরিবারে ১৯০৭ সালে সত্যেন সেনের জন্ম। অল্প বয়সেই তিনি অসহযোগ আন্দোলনে ও পরে সন্ত্রাসবাদী দলে যোগ দেন। ছাত্রজীবন শেষ হতে না হতেই তাঁর জেল-জীবনের শুরু। ১৯৩১ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজবন্দী হিসেবে বিভিন্ন জেলে আটক থাকেন। জেলে বসেই তিনি এম.এ পরীক্ষায় উর্ত্তীণ এবং
আরও দেখুন...-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments