যখন যেটা
যখন যেটা
অঙ্ক কষা ফেলে রেখেই ছুটলাম বাগানে ছেলেগুলোর কাছে। ছুটছি, দেখি সামনে মাস্টার মশাই।
বললেন, ‘কী খবর? বাতাসের সঙ্গে পাল্লাই দিচ্ছিস?’
‘না, এমনি আর কি, বাগানে যাচ্ছি।’
ও’র পাশাপাশি চলেছি আর ভাবছি, এইবার নিশ্চয় জিজ্ঞেস করবেন অঙ্কটার কথা, কী বলব? এখনো তো কষা হয়নি।
উনি কিন্তু বললেন, ‘দিব্যি আবহাওয়া...’
বললাম, ‘হ্যাঁ, দিনটা ভালোই,’ আর মনে মনে ভয় হঠাৎ যদি অঙ্কটার কথা তোলেন।
বললেন, ‘নাকটা যে তোর লাল হয়ে গেছে।’ বলে হাসলেন।
‘নাক আমার অমনি, চিরকালই লাল।’
‘তাহলে লাল নাক নিয়েই দিন কাটাবি?’
ভয় পেয়ে গেলাম, ‘কিন্তু কী করব?’
‘বিক্রি করে দিয়ে নতুন একটা নাক কিনে নে।’
‘আপনি ঠাট্টা করছেন।’
আবার হাসলেন উনি।
আমি কিন্তু ভাবছি কখন অঙ্কের কথাটা ওঠাবেন। কিন্তু না, অঙ্কের কথা জিজ্ঞাসাই করলেন না। ভুলে গেছেন নিশ্চয়।
পরের দিন ডেকে পাঠালেন, ‘কই দেখি কী কষেছিস।’
ভোলেননি তাহলে।
ডেস্কের নিচে
মাস্টার মশাই বোর্ডের দিকে ফিরতেই আমিও টুক করে ডেস্কের নিচে। যখন দেখবেন আমি নেই, তখন নিশ্চয় ভয়ঙ্কর অবাক হয়ে যাবেন।
সত্যি, কী ভাববেন তখন? সবাইকে জিজ্ঞেস করবেন কোথায় আমি—ওহ, কী হাসির ব্যাপারই না হবে! কিন্তু আধ ঘণ্টা কেটে গেল, ডেস্কের নিচে সেই বসে আছি তো আছিই। কখন ও’র চোখে পড়বে যে আমি নেই? এদিকে ডেস্কের নিচে বসে থাকাও সহজ নয়।
দ্যাখো না চেষ্টা করে। পিঠ টন টন করছে। কাশলাম একবার, কিন্তু কেউ নজরই দিল না। না, আর পরি না। সেরিওজা-টা আবার কেবলই পা দিয়ে গুঁতিয়ে চলেছে। সত্যিই পারলাম না। ক্লাস শেষ হবার আগেই উঠে পড়লাম। বললাম, ‘মাফ করবেন পিওতর পেত্রভিচ...’
মাস্টার মশাই বললেন, ‘কেন, কী ব্যাপার? বোর্ডে আসতে চাস?’
‘না, মাফ করবেন, মানে, আমি ডেস্কের নিচে বসেছিলাম...’
‘তা কেমন লাগল সেখানে? আরামে বসা যায় বুঝি? আজ দেখলাম তুই এতটুকু গোলমাল করিসনি ক্লাসে। বরাবর এমনি চুপচাপ থাকলে মন্দ হবে না।’
ঠিক কথা
‘আবার তুই ক্লাসের মধ্যে খাবার খাচ্ছিস?’
ভালিয়া চট করে জলখাবারের মোড়কটা লুকিয়ে ফেলল।
‘সবাই যদি এমনি ক্লাসের মধ্যে খেতে শুরু করে কি হবে?’ জিজ্ঞেস করলেন মাস্টার মশাই।
অমনি গুনগুন করে উঠল সারা ক্লাস। কেননা তখন কী যে হবে সেটা বলতে চায় সবাই।
কলিয়া বলল, ‘খুব রগড় হবে।’
মিশা বলল, ‘কচকচ শব্দ হবে!’
মাশা বলল, ‘সবারই পেট ভরে যাবে।’
‘আর, কী হবে না?’ জিজ্ঞেস করলেন মাস্টার মশাই।
সারা ক্লাস চুপ করে গেল। কী হবে না, তা কেউ জানে না।
মাস্টার মশাই ভেবেছিলেন নিজেই জবাব দেবেন, এমন সময় কে চেঁচিয়ে উঠল: পড়া হবে না!’
‘ঠিক কথা,’ বললেন মাস্টার মশাই।
উল-বুনিয়ে
নিশ্চয় তোমাদের অবাক লাগবে। কেননা আমি যে ব্যাটা ছেলে...কিন্তু সেটা কিছু নয়। ব্যাপার হল আমি উল বুনতে পারি। দিদিমার কাছে শিখেছি। স্কেটিঙের টুপিটা আমি নিজেই বুনেছি।
অথচ সবাই টিটকারি দিতে লাগল আমায়, ‘ছো, ছো, মেয়ে তুই! উল বোনে কেবল মেয়েরা! ছেলেরা বোনে না! দুয়ো! দুয়ো!’
খুব কষ্ট হল। এমন টিটকারি দিলে কষ্ট আবার হয় না? এমনকি মিথ্যে কথাই বললাম। বললাম, বুনতে জানি না। প্রায় কেঁদে ফেলি আর কি। কিন্তু শুরিক যে আমায় বুনতে দেখেছে। আমাদের বাড়িতে এসেছিল, তখন দেখেছে। ও বলল, ‘মিথ্যে কথা, আমি দেখেছি।’
আমার নাম দিল ওরা উল-বুনিয়া।
‘ওই যে উল-বুনিয়ে...ওহে উল-বুনিয়ে...উল..বুনিয়ে এসে গেছে রে!’
ভেবে দ্যাখো কী ভীষণ ব্যাপার!
আমি কিন্তু উল-বোনা ছাড়লাম না। টিটকারি যখন দিচ্ছে তখন বুনেই যাই। দিদিমাও বললেন, ‘বুনে যা।’
নিজের জন্যে একটা সোয়েটার বুনলাম আমি, হলদে রঙ, ডোরাকাটা। ডোরাগুলো সবুজ রঙের,
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
৳৯৯
এক মাস
৳৩০
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments