- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
ভাই ভাই
মাছের রাজা বোয়াল। রাজার মতো রাজা। যেমন নাম তেমন কাম। নদীর যত মাছ সব তার প্রজা। তার কথায় ওঠে বসে।
এহেন রাজা রাঘব বোয়াল, তার মা গেল মারা। মা থাকলে মরবেই। যার মা নেই, একমাত্র তারই মা মরে না। সবাই এই বলে রাজাকে সান্ত্বনা দিল। রাজা বললেন, মায়ের শ্রাদ্ধে এমন খাওয়া খাওয়াও, যা কেউ জন্মে দেখে নি। আমি রাজা, আমার কাছে বড়-ছোট ধনী-গরীব ভেদ নেই। আমি সবাইকে নেমন্তন্ন দেব। রাজ্যের এক দিক থেকে আর এক দিক পর্যন্ত ঢোল পড়ল।
শোন শোন মৎস্যগণ, করি নিবেদন—
রাজ-জননীর হইল পরলোক গমন (ঢ্যান্ ঢ্যান্ ঢ্যান্)
তার স্বর্গ কামনায় ভোজন উৎসব (ঢ্যান্ ঢ্যান্)
বড় ছোট ভেদ নাই, চলে এসো সব। (ঢ্যান্ ঢ্যান্)
আবাল বনিতাবৃদ্ধ সবাই আসিবে
যার যতদূর শক্তি উদরে ঠাসিবে
(ঢ্যান্ ঢ্যান্ ঢ্যান্ ঢ্যান্ ঢ্যান্ ঢ্যান্)
এমন আরও অনেক ভালো ভালো কথা তারা বলল। সমস্ত রাজ্যে ধন্য ধন্য রব পড়ে গেল। সবাই বলল, সত্য ত্রেতা স্বাপরমে এ্যায়সা কাম কোনই নেহি কিয়া। আপতো রাজচক্রবর্তী হেয়। মা বাপ তো কত জনারই মরে। কিন্তু মার জন্য এমন কে করে? রাজা শুনে মহা খুশি।
৪ঠা আশ্বিন, মঙ্গলবার। দলে দলে মাছ আসতে লাগল। যেখানে যে ছিল কেউ বাদ পড়ল না।
রুহিত কাতল আইড় ভেটকি চিতল
ইলিশ খলিশা কই চলে দলে দল।
পুঁটি, চাঁদা, কাচ্ কিরা কাতারে কাতার
বেঁহুশ হইয়া সবে মারিল সাঁতার।
কারু আজ ভয় নেই। রাজার হুকুম জারী করা আছে। আজকের দিনের জন্য কোনো মাছ কোনো মাছকে খেতে পারবে না, কামড়াতে পারবে না, এমনকি টু-টাও মারতে পারবে না। আজ সব মাছ ভাই ভাই।
বড় খানা কিনা, খেতে অনেক দেরী হবে। তাই সবাই দল বেঁধে জটলা করছে। সমাজের এত বড় মেলা আর কোনদিন তো বসেনি। বড় আনন্দের দিন। রুই মাছ পুঁটি মাছের ঘা ঘেঁষে বলে, কি ভাই, কেমন আছ? পুুঁটির বুকটা ধুক ধুক করতে থাকে। কিন্তু না, আজ কোনো ভয় নেই। পুঁটি কোনো মতে ঢোক গিলে নিয়ে বলে, ভালো আছি রুইদা, তুমি ভালো তো? বউদির খবর ভালো?
রুই-এর জিভের জল টস্ টস্ করে পড়তে থাকে, তবু কোনো মতে সামলে রাখে। আজ যে অহিংসা আর ভালোবাসার দিন।
গলদা চিংড়িদের জওয়ান ছেলেটার কানেও নেমন্তন্নের খবর গিয়ে পৌঁছেছে। সে স্বকর্ণে ঢোলের বাড়ি শুনেছে। সব মাছেরই যখন নেমন্তন্ন, চিংড়ি মাছই বা বাদ পড়বে কেন? ছেলেটা বড় পেটুক, নেমন্তন্নের গন্ধ পেয়ে বাড়ির সবাইকে কোনো কথা না বলে সোজা চলে এসেছে। সে যখন তার লম্বা লম্বা পা ফেলে আসরের মাঝখানে এসে দাঁড়াল, তাকে দেখে মাছেদের মাঝে একটা হৈ চৈ রৈ রৈ পড়ে গেল। এমন বিদঘুটে মূর্তি দেখে মাছদের ছানারা মায়ের পেটের তলায় সেঁদিয়ে পড়ল। তার দিকে তাকিয়ে কেউ বলল, এটাকে চিনি না তো! কেউ বলল চিংড়ি, কেউ বলল চিংড়ি মাছ, কেউ বলল ইচা। নানা জনে নানা কথা বলতে লাগল। তবে মাছেদের মধ্যে ঝানু যারা, তারা ওর নাম ধাম বংশ-পরিচয় সব কিছুই জানে।
এই রকম একজন প্রাচীন মুরুব্বিমত মাছ এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল, তুমি কে হে? মাছের বাড়ির নেমন্তন্নে তুমি কেন? তোমাকে কে ডেকেছে?
ছোকরা চটপট জবাব দিল, আমি? আমি চিংড়ি মাছ গো। কে ডেকেছে মানে? তোমরাই তো ঢোল দিলে ছোট-বড় ভেদ নেই, সব মাছের নেমন্তন্ন। তাই তো এলাম।
তোমার পদবী?
গলদা।
হু, কিন্তু তুমি-যে মাছ, এ কথা কে তোমাকে বলেছে?
আরে, কে আবার বলবে, কার নাম করব? চিংড়ি মাছকে সবাই চিংড়ি মাছই বলে থাকে।
যারা
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
সত্যেন সেন
বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামের এক বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী পরিবারে ১৯০৭ সালে সত্যেন সেনের জন্ম। অল্প বয়সেই তিনি অসহযোগ আন্দোলনে ও পরে সন্ত্রাসবাদী দলে যোগ দেন। ছাত্রজীবন শেষ হতে না হতেই তাঁর জেল-জীবনের শুরু। ১৯৩১ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজবন্দী হিসেবে বিভিন্ন জেলে আটক থাকেন। জেলে বসেই তিনি এম.এ পরীক্ষায় উর্ত্তীণ এবং
আরও দেখুন...-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments