- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
বোতলের ভূত
একজন গরীব কাঠুরে ছিল। সে রোজ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাঠ কাটত। কাঠ কেটে যখন তার কিছু টাকা জমল, তখন সে সেই টাকা দিয়ে তার ছেলেটিকে পাঠিয়ে দিল শহরে লেখাপড়া শিখতে।
ছেলে খুব মন দিয়ে পড়াশুনা করে, তার বেশ নামও হচ্ছে, এর মধ্যে তার বাবার টাকা গেল ফুরিয়ে। কাজেই তার লেখাপড়া শেখা হল না, সে বাড়ি ফিরে এল। কাঠুরেরও তাতে বড় দুঃখ হল। ছেলেটি তাকে এই বলে সান্ত্বনা দিল, 'তার জন্য ভাবছ কেন বাবা? যদি কপালে থাকে, ঢের লেখাপড়া হবে। এখন চল 'কাঠ কাটতে যাই।' কাঠুরে বলে, 'তোমার গিয়ে কাজ নেই। কখনো কাঠ কাটোনি, এত পরিশ্রম করতে তুমি কি পারবে? আর আমাদের তো একখানা বই কুড়ুল নেই।' কিন্তু ছেলে যাবেই ঠিক করেছে। সে বলল, "আর কারো কাছ থেকে একটা কুড়ুল চেয়ে আন বাবা। তারপর ক'দিন কাঠ কাটলে যে পয়সা হবে, তাই দিয়ে একটা নূতন কুড়ুল কেনা যাবে।"
তখন আরেকজনের কুড়ুল ধার করে নিয়ে দু'জনে বনের ভিতরে গেল কাঠ কাটতে। দুপুরবেলায় কাঠুরে কুড়ুল রেখে, তার ছেলেকে ডাকল, 'এস একটু বিশ্রাম করে, চারটি খেয়ে নিই। বড় পরিশ্রম হয়েছে!' কিন্তু ছেলের ইচ্ছা নেই বিশ্রাম করতে। 'তুমি খাও। আমার মোটেই খিদে পায়নি। আমি একটু ঘুরে দেখে কোনও গাছে পাখির বাসা আছে কিনা।' বলে সে পাখির বাসা খুঁজতে বেরুল। তারপর এ-গাছ ও-গাছ দেখতে দেখতে, এক প্রকাণ্ড বটগাছের কাছে এল। তিনশো বছরের পুরনো বটগাছ, ডালপাতায় চারদিক অন্ধকার করে রেখেছে; ডাল থেকে মোটা মোটা শিকড় সব মাটি পর্যন্ত ঝুলে পড়েছে। কাঠুরের ছেলে ভাবল, 'এর ভিতর নিশ্চয় অনেক পাখির বাসা পাওয়া যাবে।' এই ভেবে সে বটগাছের কাছে গিয়ে, উপরের দিকে তাকিয়ে খুঁজতে লাগল-পাখির বাসা আছে কিনা। হঠাৎ তার মনে হল, কে যেন বলছে, 'আমাকে খুলে দাও গো, আমাকে খুলে দাও।' সে এদিক-ওদিক চেয়ে কাউকে দেখতে পেল না। আবার কে যেন বলছে, 'খুলে দাও গো, খুলে দাও।' তখন সে চেঁচিয়ে জিজ্ঞাসা করল, 'কে খুলে দিতে ডাকল? কোথায় তুমি?' সে কথার উত্তর এল, 'এই যে গাছের শিকড়ের নিচে।' তখন ছেলেটি নিচের দিকে তাকিয়ে, বটগাছের একটা শিকড়ের তলায় একটা বোতল দেখতে পেল। বোতলটাকে বার করে হাতে নিয়ে দেখে যে, তার ভিতরে ব্যাঙের মতো একটা কি যেন লাফাচ্ছে, আর চিঁচিঁ করে বলছে, 'আমাকে খুলে দাও, আমাকে খুলে দাও।' কাঠুরের ছেলে বোতলের ছিপিটা দিল খুলে। ওমা! অমনি সেই ব্যাঙের মতো জিনিসটা লাফিয়ে বাইরে এসে, দেখতে দেখতে দশটা বটগাছের মতো উঁচু হয়ে বলে কি-'এবার তোর ঘাড় ভাঙ্গব! আমি ঠিক করে রেখেছি যে, আমাকে বোতল থেকে যে বার করবে, আমি তার ঘাড় ভাঙ্গব।' কাঠুরের ছেলে কিন্তু তাতে মোটেই ভয় পেল না; সে জবাব দিল, 'এ কথা আগে বলতে হয়! তাহলে আর তোমাকে বোতল থেকে বেরুতে হতো না। ঘাড় ভাঙ্গা বুঝি অমন সহজ কথা! আগে সাক্ষী বার কর যে আমি তোমাকে ছেড়ে দিয়েছি!'
ভূত বলল, 'সাক্ষীটাক্ষী আমি জানি না। ছেড়ে যখন দিয়েছ, তখন ঘাড় ভাঙ্গবই।' কাঠুরের ছেলে তাকে থামিয়ে বলল, 'রোস, অত তাড়াতাড়ি কেন? আমার তো কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না যে, তুমি ওই বোতলের ভিতরে ছিলে। অত বড় ভূতটা কি কখনও ওর ভিতর থাকতে পারে? ওসব তোমার মিথ্যা কথা।'
ভূতেরা মিথ্যা কথা বলে না, কাজেই তাকে মিথ্যাবাদী বলাতে ভূতটা ভারি চটে গিয়ে বলে, 'বটে! মিথ্যা কথা? তবে এই দেখ।' বলেই, সুড়ৎ করে আবার ব্যাঙের মতো ছোট্ট হয়ে বোতলে গিয়ে ঢুকল আর কাঠুরের ছেলেও অমনি তাড়াতাড়ি দিল
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
সুখলতা রাও
সুখলতা রাও ছিলেন একজন ভারতীয় সমাজকর্মী, শিল্পী এবং শিশুদের বইয়ের লেখক। ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রদেশের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন, তিনি ছিলেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর কন্যা এবং সুকুমার রায়ের বোন।
-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments